মাদারীপুরের শিবচরে মো. শফিকুল ইসলাম (২৮) নামে ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয়কর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর পৌরসভার শেখ হাসিনা সড়কে একটি পুরাতন থ্রি-হুইলার থেকে রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবক বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামের নুরুল হকের ছেলে। তিনি কিউ রেক্স কোম্পানিতে শিবচরে কর্মরত ছিলেন।
শিবচর থানার উপপরিদর্শক রবিউল ইসলাম আজ সকাল ৮টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শফিকুল ইসলাম তার ২ জন সহকর্মীকে নিয়ে মাহেন্দ্রতে চড়ে শিবচরের মাদবরচরের বিভিন্ন বাজারে ওষুধ বিক্রি করে শিবচর ফিরছিলেন।
খাড়াকান্দি এলাকায় পৌঁছালে রাস্তার উপর থাকা ড্রেজারের পাইপে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতির মাহেন্দ্রটি উল্টে যায়।
এ সময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে শফিকুল গুরুতর আহত হন। পরে তার সঙ্গে থাকা দুই সহকর্মী স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই মাহেন্দ্র গাড়িতে করেই তাকে শিবচর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিবচর পৌরসভার শেখ হাসিনা সড়কে পৌঁছালে শফিকুল ইসলাম মারা যান।
পুলিশ ধারণা করছে, সহকর্মীরা ভয়ে তার লাশ মাহেন্দ্র গাড়িতে রেখেই পালিয়ে যায়।
রনি হাওলাদার নামে মাদবরের চর এলাকার এক যুবক বলেন, রাতে আমাদের এলাকায় দুর্ঘটনায় এক লোক মারাত্মক আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাচ্চর ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়।
শিবচর থানার উপপরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, রাতে পৌরসভার শেখ হাসিনা সড়কে থ্রি-হুইলারের মধ্যে লাশ দেখে স্থানীয়রা শিবচর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ও থ্রি হুইলারটি জব্দ করে পুলিশ।
ময়নাতদন্তের জন্য কিছুক্ষণের মধ্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন বলেন, এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। গুরুতর আহত শফিকুলকে কে বা কারা রেখে পালিয়ে গেছে সেটি আমরা নিশ্চিত নই। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
