চট্টগ্রামে তথ্যমন্ত্রী

মানবাধিকার সংগঠন ইসরায়েল-আমেরিকার নৃশংসতা দেখছে না

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ০২:০০ এএম

শান্তিরক্ষা মিশনে র‌্যাবের প্রতি নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ১২টি মানবাধিকার সংগঠন জাতিসংঘে যে চিঠি পাঠিয়েছে তাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। চিঠি পাঠানোর আড়াই মাস পরে বিষয়টি সামনে আনায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচেরও সমালোচনা করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আমেরিকা-ইসরায়েলের নৃশংসতা এই ধরনের সংগঠনগুলোর চোখে পড়ে না। তারা কোনো বিবৃতি দেয় না। এ কারণে এই সংগঠনগুলো মানুষের কাছে আস্থা হারিয়েছে। 

গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

র‌্যাব নিয়ে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের চিঠির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১২টি মানবাধিকার সংগঠনের দু’তিনটি ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠান নাম সর্বস্ব। তাদের তেমন কোনো অস্তিত্ব নেই। সম্প্রতি আলোচিত চিঠি তারা দিয়েছিল আড়াই মাস পূর্বে। কিন্তু এতদিন সামনে না এনে এখন কেন প্রকাশ করা হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। এতে বোঝা যায় এটাও ষড়যন্ত্রের অংশ। এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায়ও বিবৃতি দিয়েছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো আমেরিকা বা ইসরায়েলের নৃশংসতা দেখতে পায় না। সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলেও সেসব বিষয়ে তারা কোনো বিবৃতি দেয় না।’

বিএনপির বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের বিষয়ে সরকারের নিকট সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে দাবি করে এসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের নিকট প্রত্যাখ্যাত হয়ে এখন তারা বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা করছে। বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের বদনাম করছে। পাশাপাশি দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ধ্বংসের চেষ্টা ও দেশকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।’

তিনি বলেন, নয়াপল্টন অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে বিএনপি বিদেশি লবিস্ট ফার্মের সাথে চুক্তি করেছে। তাদের অপকর্ম এখন জাতির সামনে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। এ লবিস্টের পেছনে বিএনপি বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করেছে। দেশ থেকে এসব অর্থ কীভাবে গেল তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান খতিয়ে দেখবে।’

নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল আইন করার প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার এ আইন করার উদ্যোগ নেওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। অথচ টিআইবি উল্টো বিবৃতি দিয়েছে, যা বিএনপির বিবৃতির মতো। দেখা যাচ্ছে বিএনপির বিবৃতির সঙ্গে টিআইবির বিবৃতির যথেষ্ট মিল রয়েছে। টিআইবির বিবৃতিরও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।’

 চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মুনওয়ার রিয়াজ মুন্নাসহ আরও সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত