পাপ মোচনকারী দুই আমল

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১১:২৪ পিএম

দুনিয়ায় নানাভাবে গোনাহ হয়ে যায়। কিন্তু মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, গোনাহ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে পেরেশান হয়; কীভাবে গোনাহ থেকে মুক্ত হতে পারে, ক্ষমা পেতে পারে! কোরআনে কারিমে মুমিনের এ গুণ আলোচিত হয়েছে এ ভাষায়, ‘এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম (পাপ) করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা (তওবা) করে। আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করবে? আর তারা যা করে ফেলে জেনে বুঝে তাতে অটল থাকে না।’ -সুরা আলে ইমরান : ১৩৫

হ্যাঁ, পাপের কারণে মুমিন পেরেশান হয় এবং চিন্তা করতে থাকে- কীভাবে কখন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন! হজরত রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন, কোন্ সময় ক্ষমা চাইলে ক্ষমা লাভের আশা করা যায়। এমনই দুটি আমল হলো-

তাহাজ্জুদ নামাজ : তাহাজ্জুদ নামাজ। বান্দা ও রবের মধ্যে একান্ত সাক্ষাৎ। সবাই ঘুমিয়ে। এখন আমি আর আমার রব। এ যেন আল্লাহর সঙ্গে বান্দার বিশেষ সম্পর্ক, বিশেষ নৈকট্যের মাধ্যম। একে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘পূর্ববর্তী উম্মতের নেককারদের বৈশিষ্ট্য’ বলেছেন। এর মাধ্যমে বিশেষ নৈকট্য হাসিল হয়। তাই তো তা এই উম্মত ও পূর্ববর্তী উম্মতের সালেহিনদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল।

এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত যেকোনো সময় তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া যায়। কিন্তু রাতের শেষ ভাগ তাহাজ্জুদের জন্য বেশি উত্তম। তাছাড়া রাতের শেষ ভাগে আল্লাহ বান্দাদের ডাকতে থাকেন, কার কী চাওয়ার আছে, চাও, আমি দেব। ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি ক্ষমা করব।

সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমাদের রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছো, দোয়া করবে আমি তার দোয়া কবুল করব। কে আছো, আমার কাছে (তার প্রয়োজন) চাইবে আমি তাকে দান করব। কে আছো, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করব।’ -সহিহ বোখারি : ১১৪৫

সুনানে ইবনে মাজা উক্ত বর্ণনা উল্লেখ করার পর বর্ণনাকারী বলেন, ‘এ কারণেই তারা প্রথম রাতের তুলনায় তাহাজ্জুদ শেষ রাতে পড়াকে বেশি পছন্দ করতেন।’ -ইবনে মাজাহ : ১৩৬৬

শেষ রাতের নামাজ তাহাজ্জুদের বিষয়ে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তা পাপ মোচনকারী।’ হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমরা কিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদের নামাজের প্রতি যতœবান হও; এটি পূর্বসূরি সালেহিনের শান তাদের আমল-অভ্যাস। এর মাধ্যমে রবের নৈকট্য হাসিল হয়, পাপমোচন হয় এবং তা গোনাহ থেকে ফিরিয়ে রাখে।’ -জামে তিরমিজি : ৩৫৪৯

শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা : বুজুর্গ আলেমদের মতে, শেষ রাতের ইস্তেগফার আল্লাহর খাস বান্দার বৈশিষ্ট্য। কোরআনে কারিমে মহান আল্লাহ শেষ রাতে ইস্তেগফারকারীদের প্রশংসা করেছেন। জান্নাতিদের গুণ বর্ণনায় আল্লাহ বলেন, ‘...এবং রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমাপ্রার্থীরা।’ -সুরা আলে ইমরান : ১৭

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) দোয়া-ইস্তেগফারের জন্য শেষ রাতের অপেক্ষায় থাকতেন। ইবনে কাসির (রহ.) উপরোক্ত আয়াতের অধীনে উল্লেখ করেন, ইবনে ওমর (রা.) রাতে নামাজে মশগুল থাকতেন। এক পর্যায়ে নাফে (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করতেন, সাহার (শেষ রাত) কি ঘনিয়ে এসেছে? যখন নাফে বলতেন, হ্যাঁ, তখন ইবনে ওমর (রা.) দোয়া-ইস্তেগফারে মশগুল হতেন। ইবনে মাসউদ (রা.) শেষ রাতে দোয়া-ইস্তেগফারে মশগুল হতেন এবং বলতেন, (হে আল্লাহ!) এখন ‘সাহার’ (প্রতিশ্রুত শেষ রাত) সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। -তাফসিরে ইবনে আবি হাতেম

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত