এক্স-রে রিপোর্ট হলো ডিজিটাল শিল্পকর্ম!

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৪৯ পিএম

শুনতে অবাক হলেও ডিজিটাল শিল্পকর্ম হিসেবে এক্স-রে রিপোর্ট বিক্রির চেষ্টা করেছেন একজন চিকিৎসক। ঘটনাটি ঘটেছে ফ্রান্সে। সেখানকার একজন জ্যেষ্ঠ অর্থোপেডিক সার্জন এ কাজ করেছেন। এ অপরাধে তিনি বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ওই সার্জনের নাম ইমানুয়েল মাসমেজিন।

২০১৫ সালে প্যারিসের সংগীত মিলনায়তন ব্যাতাক্লতে হামলা চালিয়েছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। মূলত মাসমেজিন ওই হামলায় আহত এক নারীর বাহুর এক্স-রে প্রতিবেদন ‘নন-ফাঞ্জেবল টোকন’-এ (এনএফটি) ডিজিটাল শিল্পকর্ম হিসেবে অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো অনুমতিও নেননি। ওই হামলায় সংশ্লিষ্ট নারীর প্রেমিক নিহত হয়েছিলেন।

অবশ্য এ ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন ওই সার্জন। মাসমেজিন দক্ষিণ-পশ্চিম প্যারিসের জস পুপিদু সরকারি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। গত শনিবার ওয়েবসাইট মিডিয়াপার্ট প্রথম এই এক্স-রের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস ওপেনসির মাধ্যমে এটি বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর জন্য ২ হাজার ৭৭৬ ডলার পর্যন্ত মূল্যও ওঠে। তবে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর তা সেখান থেকে সরানো হয়েছে। ওই এক্স-রেতে গুলিবিদ্ধ একটি বাহুর ছবি রয়েছে।

ওই নারীর আইনজীবী এলোজি আব্রাহাম বলেন, ‘এই চিকিৎসক রোগীর গোপনীয়তা ভঙ্গ করেছেন।’ ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর প্যারিসে ওই আত্মঘাতী সিরিজ হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ব্যাতাক্লতে ৯০ জনসহ ১৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

এনএফটি হলো একধরনের ডিজিটাল সম্পত্তি, যা একটি ব্লক চেইনে জমা থাকে। নেটওয়ার্কে যুক্ত কম্পিউটারের মাধ্যমে এর লেনদেন ও হিসাব রাখা হয়। ব্লক চেইন এনএফটি পণ্যের তথ্যের সত্যতা ও এর মালিকের পরিচয় নিশ্চিত করে। সব ধরনের ডিজিটাল আইটেম যেমন ছবি, ভিডিও, সংগীত, লেখা এমনকি টুইট-বার্তা পর্যন্ত এনএফটি হিসেবে বেচাকেনা করা যেতে পারে। এনএফটি কর্ম অনুকরণ করে একই রকম আরেকটি তৈরি করা যায়। তবে আসলটির মালিক শুধু একজনই। এনএফটির নিজস্ব বাহ্যিক আকার নেই, যা ধরা বা ছোঁয়া যায়। ডিজিটাল এই টোকেনকে অনেকটা তুলনা করা যায় সম্পদের মালিকানার সনদের সঙ্গে।

বিশ্বে গত বছর থেকে প্রায় হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে ডিজিটাল শিল্পকর্ম বিক্রি। টুইটারের প্রথম টুইটটিও ডিজিটাল আর্টওয়ার্ক হিসেবে বিক্রি করা হয়েছিল। সেই থেকেই ক্রমশ এমন শিল্পকর্ম বিক্রি বেড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত