উচ্ছেদের পর রেলওয়ের জমি ফের দখলের মচ্ছব

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৫২ এএম

উচ্ছেদের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবার দখল হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নম্বর রেলগেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রেললাইনের দু পাশে রেলওয়ের বিশাল সম্পত্তি। উচ্ছেদ করা খালি জায়গায় রাতারাতি শতাধিক দোকান তুলে দখল করা হয়েছে। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় রেল কর্র্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে যেকোনো মুহূর্তে আবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার কামরুল হাসান।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় পাঁচ শতাধিক দোকানপাট উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল রেললাইন কাজের অংশ হিসেবে এই উচ্ছেদ অভিযান হয়। পরে রেলের উচ্চপর্যায়ের টিম বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিভিশনাল (ঢাকা) এস্টেট অফিসার নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ পরিদর্শনে এসে জানান, ডাবল রেললাইন চাষাড়া থেকে কমলাপুর পর্যন্ত হবে, তাই আপাতত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ থাকবে। পরে গত বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে জোরেশোরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

এদিকে, বছর না ঘুরতেই রেলওয়ের উচ্ছেদ করা সেই জায়গা আবার দখল হয়ে গেছে। শতকোটি টাকার এই সম্পত্তি নামে, বেনামে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা দখল করে দোকানপাট-মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেলওয়ের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন নামের মার্কেট। আর একটি চক্র কোটি কোটি টাকা সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন প্রকল্পের কারণে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান জোরেশোরে চলার একপর্যায়ে ঘোষণা হয়, ডাবল লাইন হবে চাষাড়া পর্যন্ত। এতে ২ নম্বর রেলগেট এলাকা থেকে শুরু করে চাষাড়া পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশ আবারও দখল হয়ে যায়। আর এই দখলে সহযোগিতা করছে একটি সিন্ডিকেট। যারা আবার চাঁদাও আদায় করছে। ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে জোরেশোরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে পাঁচ কোটি টাকার বেশি চাঁদা তোলা হয় রেলওয়েকে দেওয়ার নামে। তার পরও উচ্ছেদ থামেনি। পরে যতটুকু উচ্ছেদ হয়েছে আর যাতে উচ্ছেদ না হয় সেই চেষ্টার কথা বলে আরও দুই কোটি আদায় করা হয়েছিল। বর্তমানে ডাবল লাইন না হওয়ায় নতুন করে চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন।

নগরীর বাসিন্দা ইমাম হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমনিতেই যানজটের শহর নারায়ণগঞ্জ। এই শহরকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক প্রশস্তসহ রেললাইনের দুই পাশ দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি ২ নম্বর রেলগেট থেকে চাষাড়া পর্যন্ত রেলপথের পাশ দিয়ে রিকশার লাইন করলে শহরের যানজট অর্ধেকে নেমে আসবে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার কামরুল হাসান বলেন, ডাবল রেললাইন নারায়ণগঞ্জ স্টেশন পর্যন্ত আসছে না বিধায় উচ্ছেন অভিযান আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ সুযোগে কে বা কারা নতুন করে উচ্ছেদকৃত রেলের সম্পত্তি দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করেছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে

জানিয়েছি। অচিরেই আবার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত