ঝুঁকিতে কুষ্টিয়া-পাবনা সড়ক

শুকনো মৌসুমে পদ্মার তীব্র ভাঙন

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১২:১৬ এএম

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া, সাহেবনগর ও আশপাশের প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পদ্মার তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার এমন ভয়াবহ রূপ এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। ভাঙনে ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি। এতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে ঘরবাড়িসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা, অবকাঠামো এবং কুষ্টিয়া-পাবনা সড়ক।

ভাঙনকবলিতদের দাবি, পদ্মা নদীর বাম তীরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রক্ষায় পদ্মার ২৫০ মিটার ভেতরে এসে গ্রোয়েন তৈরি করার কারণে নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে ডান তীরে ভাঙন সৃষ্টি করেছে। সেই সঙ্গে যুক্ত আছে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে নদী থেকে বালু তোলার ঘটনা। একমাত্র আয়ের উৎস ফসলি জমি হারিয়ে নদী তীরবর্তী জনপদের এ মানুষগুলো চরম বিপন্নের মুখে পড়েছে বলে দাবি তাদের।

মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের সরিজান নেছা (৭৮) বলেন, ‘এর আগে আরও তিনবার গাঙ্গের ভাঙনে ঘরবাড়ি হারায়ে এ গ্রামে আইসি। আমার শ^শুর বসায় দিয়ে গেছে। আর কয়দিনি বা বাঁচপো, মরার আগে এই বাড়িডাও মনে হচ্ছে আর থাকপিনা। সরকার যেদি এই ভাঙন ঠেকানির কাজ করি দিতি তালি আর ভাঙবি না।’

ইউপি সদস্য মেহেদী হাসানের অভিযোগ, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিরক্ষায় পদ্মা নদীর ভেতরে ৩০০ মিটার ঢুকে এসে বাঁধ তৈরি করেছে। গত বছর থেকেই নদীর পানি বহলবাড়ী খাদিমপুর সাহেবনগর এলাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তখনই আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য নেতাদের বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ না করার কারণে গত সাত দিনের মধ্যে পাড় ভেঙে প্রায় ৭৫০ একর তিন ফসলি জমি নদীতে ভেঙে তলিয়ে গেছে।

স্কুলশিক্ষক মওদুদ আহমেদ রাজিব বলেন, ভাঙনের যে গতি অতি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এখানকার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-মসজিদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো নদীতে চলে যাবে। ভাঙনের তীব্রতায় এখানকার শত শত মানুষ রাতে না ঘুমিয়ে বসে বসে পাহারা দিচ্ছে, কখন যে কার সাহায্যে দৌড়াতে হয়।

কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার সঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী একমাত্র মহাসড়কটি পদ্মার পাড় ভাঙনের কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে নদী সড়কের ১৫০-২০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে। যা দুই বছর আগেও অন্তত দুই কিলোমিটার দূরত্বে ছিল।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল হামিদ বলেন, এবারের বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর একদিকে নদীর মাঝখানে চর জেগে উঠেছে; অন্যদিকে পদ্মার বাম তীরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় পদ্মা নদীর প্রায় ২৫০-৩০০ মিটার ভেতরে এসে গ্রোয়েন করার কারণে নদীর মরফোলজিক্যাল চেঞ্জ বা গতিপথের পরিবর্তন হওয়ায় এ ভাঙনটা হয়ে থাকতে পারে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত