দেশের সুনাম ক্ষুন্ন ও রপ্তানি বাণিজ্য ধ্বংস করতে বিদেশে চিঠি দেওয়া এবং লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা দেশদ্রোহী ও দেশবিরোধী কাজ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এটা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। মূলত বিএনপি ও তাদের নেতারা দেশদ্রোহী কাজ করছেন।’ গতকাল শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু কর্নারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগসহ দেশের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করছে, সেগুলো তদন্ত করে খুঁজে বের করা হবে। অবৈধ অর্থ কোত্থেকে কীভাবে গেল, কারা নিল, সেগুলো খুঁজে বের করতে তদন্ত হবে এবং তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও সেদিন সংসদে বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন। বিএনপি এবং বিএনপির মহাসচিব দেশের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের বদনাম করার জন্য, এদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করার জন্য, দেশের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য বিদেশে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এটি তো দেশবিরোধী কাজ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব নিজে স্বাক্ষর করে ইউএস কংগ্রেসের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে যেভাবে চিঠি দিয়েছেন সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ওপর আস্থা থাকলে তো বিএনপির বিদেশিদের কাছে চিঠি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এদেশের ক্ষমতার মালিক জনগণ, জনগণই ঠিক করবে কারা ক্ষমতায় যাবে এবং কারা ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে, লবিস্ট নিয়োগ করে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র এবং আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তারা এফবিআইয়ের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। সেই এফবিআইয়ের এজেন্টকে কিন্তু এখন বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছে।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এভাবে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বন্ধ করার জন্য বেগম খালেদা জিয়া ওয়াশিংটন টাইমসে নিজের নামে নিবন্ধ লিখেছেন কয়েক বছর আগে, এই কাজগুলো তো দেশবিরোধী কাজ, দেশদ্রোহী এই কাজগুলো তারা করেছেন। তারা যে বিভিন্ন জায়গায় লবিস্ট নিয়োগ করেছেন, তার ডকুমেন্ট আমার আইপ্যাডে সংগৃহীত আছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও ডকুমেন্টসহ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সকালে একবার সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে, বিকেলে একবার বলে এবং সন্ধ্যায় একবার বলে। দিনে তিনবার সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বলে, আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, যেটি হাস্যকর।’
বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধনকালে অন্যান্যের মধ্যে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সদ্য বিদায়ী জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য ও নবনিযুক্ত জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
