অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় শুনতে কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড় জমিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।
এ মামলাকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা এ দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুপুরের পর মামলার কার্যক্রম শুরু হবে।
চাঞ্চল্যকর সিনহা হত্যাকাণ্ডের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও রায় নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সারা দেশসহ জেলার সবখানেই চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছে ওসি প্রদীপ-এসআই লিয়াকতের ফাঁসি হবে, আবার কেউ বলছেন সব আসামির ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারেন আদালত। যার আঁচ লেগেছে আদালত প্রাঙ্গণেও।
সোমবার সকালে রায়কে সামনে রেখে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের হাতে ক্রসফায়ারে নিহতদের স্বজন ও নির্যাতিতরা।
সকাল পৌনে ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভুক্তভোগীরা ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতসহ সিনহার হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসি দাবি করেছেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন ওসি প্রদীপের হাতে নির্যাতনের শিকার কক্সবাজারের সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তাফা খান, ভুক্তভোগী হামজালাল ও ক্রসফায়ারে ছেলে হারানো হালিমা খাতুনসহ কয়েকজন।
তাদের ভাষ্য, ওসি প্রদীপ ক্রসফায়ারের নামে অনেক মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণসহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকারে হলেও কোনো প্রতিকার পাননি। তাই তারা সিনহা হত্যা মামলার রায়ের দিকে চেয়ে আছেন। এই মামলায় ওসি প্রদীপের ফাঁসি হলে তারা সান্ত্বনা পাবেন। এতে শতাধিক নির্যাতিত ব্যক্তি অংশ নেন।
ওসি প্রদীপের ফাঁসির দাবির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
এ ছাড়া সকাল ৭টা থেকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নারী পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে সাদা পোশাকের বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতসহ ১৫ আসামিকে সকালে আদালতে নিয়ে আসার কথা থাকলেও দুপুরে আনা হবে।
তবে আদালতের একটি সূত্র জানিয়েছেন, সিনহা হত্যা মামলার রায় সকালে দেওয়ার কথা থাকলেও দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণের সামনে গিয়ে দেখা যায়, দায়রা জজ কোর্ট এলাকার চারদিকে প্রতিবন্ধকতা (ব্যারিকেড) দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা পুলিশ আদালতে প্রবেশের একটি ফটক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আদালতের কর্মীরাও ওই ফটক দিয়ে ভেতরে যেতে পারছেন না। সকাল ৭টায় থেকেই আদালত এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার দল তৎপর রয়েছে।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব।
