নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় অবস্থিত দুটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ পর্যটক ও দর্শনার্থীদের মনোযোগ কেড়েছে। ইতিমধ্যে মসজিদ দুটি বৃহত্তর নোয়াখালীতে অনন্য স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আলাদা আলাদাভাবে নির্মিত এই মসজিদ দুটোর নান্দনিকতা, আধুনিকতার ছোঁয়া এবং চারপাশের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ যে কাউকে বিমোহিত করবে।
নলুয়া মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ : নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত দৃষ্টিনন্দন নলুয়া মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর মুসল্লি ও দর্শনার্থী ভিড় করেন।
নলুয়া মিয়াবাড়ির সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী নুর-ই-আলম চৌধুরী প্রকাশ পাপ্পু ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৭ শতাংশ জমির ওপর ৮তলা ফাউন্ডেশনের দুই তলাবিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করেন। এ ছাড়া মসজিদের পাশে ৮ একর জায়গার ওপর সাজ ইকোপার্ক নামে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেনও গড়ে তুলেছেন। ভবিষ্যতে সেখানে একটি দাতব্য হাসপাতালও প্রতিষ্ঠা করা হবে।
নবনির্মিত এই মসজিদে একসঙ্গে ১ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নারীদের আলাদা নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। মসজিদসহ পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে শৈল্পিক কারুকার্যে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি একনজর দেখার জন্য, নামাজ আদায়ের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা। ভিড় করছেন।
হাক্কানি জামে মসজিদ : নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামের হাসেম সওদাগরের বাড়িতে অবস্থিত অপরূপ সৌন্দর্যের নিদর্শন হাক্কানি জামে মসজিদ। মসজিদটি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে ব্যয়বহুল ও সৌন্দর্যময় ৩ তলাবিশিষ্ট একটি মসজিদ। অপরূপ সৌন্দর্যময়ী মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে হাসেম সওদাগরের মসজিদ হিসেবে পরিচিত। সৌন্দর্য ও এর বিশালতায় এটি বাংলাদেশের মধ্যে আকর্ষণীয় মসজিদগুলোর একটি। আশির দশকের প্রথম দিকে হাসেম সওদাগর বাড়ি ও আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় খুব ছোট পরিসরে হাক্কানি জামে মসজিদটি নির্মিত হয়। পরবর্তী সময়ে আবুল খায়ের গ্রুপ কোম্পানির অর্থায়নে ২০০৭ সালে হাক্কানি জামে মসজিদটি পুনরায় নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়।
মসজিদটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নতমানের পাথরসহ নানাবিধ নির্মাণ সামগ্রী। যা দূর থেকে এক নজর চোখ পড়লেই মানুষ মসজিদটির পাশে এসে দেখার আগ্রহ জোগায়। মসজিদটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। মসজিদটিতে রয়েছে ৪টি বড় বড় মিনার। ৩টি ছোট বড় গম্বুজ।
শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিসহ গরিব, অসহায় ও দুস্থদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয় আবুল খায়ের গ্রুপ কোম্পানির অর্থায়নে। মসজিদের উত্তর পাশে দুই তালাবিশিষ্ট একটি নুরানি ও হেফজখানা। এখানে গরিব শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন। পূর্ব পাশে বিশাল একটি ঈদগাহ এবং দক্ষিণে একটি মাজার রয়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে হাক্কানি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাবিলপুর গ্রামের অধিবাসী হাফেজ মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি জানান, মসজিদটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসেন। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে মানুষের ভিড় বেশি হয়। সেনবাগ রাস্তার মাথা থেকে সি এন জি করে কাবিলপুর গ্রামে গেলেই মসজিদটি দেখে আসতে পারবেন।
