দিনাজপুর সদরের কর্ণাই এলাকায় ভেঙে যাওয়া শহররক্ষা বাঁধটি গত পাঁচ বছরেও নির্মাণ করা হয়নি। এতে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক। বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে কর্ণাই এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হন কৃষক। এবারও নদীর পানিতে পুরো কর্ণাই এলাকার ফসলের জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় সেখান দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে উৎপাদিত ফসল বিকল্প ব্যবস্থায় নিতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষক।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ১২ আগস্ট দিনাজপুর শহরের মাহুতপাড়া, তুতবাগান, সদর উপজেলার কর্ণাই ও গাবুড়া এলাকায় শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে গিয়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় সে সময় প্রাণ হারান ২৯ জন। দিনাজপুর শহরের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। পরে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অধিকাংশ শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলেও সদর উপজেলার কর্ণাই এলাকার বাঁধটি আজও নির্মাণ হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, কর্ণাই নয়াপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ১০০ ফিট প্রশস্ত বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর বড় বড় গর্তের তৈরি হয়েছে। বাঁধের ওপরে এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে এলাকাবাসী। ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন বাঁধের পাশের এক ব্যক্তির মালিকানা জমি দিয়ে চলাচল করছে। এতে জমির মালিক শাওনিয়া রায় গত পাঁচ বছর ধরে এতে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না। বাঁধের ওপর দিয়ে কর্ণাই, সুবড়া, বটতলা, কমলাপাড়া, সাহাপাড়া, গোবিন্দপুর, গোসাইপুর, ডুমুরতলীসহ ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে।
স্থানীয়রা বলছে, ভাঙা বাঁধটি শিগগিরই মেরামত করা না হলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই কর্ণাই এলাকা ও সংলগ্ন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে কর্ণাই এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
স্থানীয় কৃষক বুধা রায় বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রতি বছর এলাকার জনপ্রতিনিধি শুধু সুতলি (সুতা) দেয় আর এলাকাবাসী বাঁশ সংগ্রহ করে স্বেচ্ছায় সাঁকোটি তৈরি করি। এখানে সেতু বা বাঁধ নির্মাণ করে দিলে আমাদের উপকার হয়।’
ভ্যানচালক জ্যোতিষ রায় বলেন, ‘সবাই তো বলতেছে এটা ঠিক করা হবে, কিন্তু পাঁচ বছরেও তো কিছু হলো না।’
চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুরাদ আলী বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দেখছে। তারা বাঁধটি নির্মাণ করবে।’
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাঁধটি নির্মাণের ব্যাপারে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ওই স্থানে আমাদের সার্ভে করা হয়েছে। আমরা কাগজপত্র ঢাকায় পাঠিয়েছি। ঢাকা থেকে কাগজপত্র ফেরত পেলে বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’
