ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মাইজকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) জায়গা দখল করে পাকা ঘর ও রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার ওয়াপদার মোড় থেকে পুরনো বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক ও জনপথের জায়গা স্থানীয় কাউন্সিলরসহ কয়েকজন প্রভাবশালী দখল করে নিয়েছেন। অনেকে পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। কেউ আবার সওজের জায়গা ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে স্থানীয়দের জনজীবন হুমকিতে ফেলছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারি জায়গা দখলের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বারবার মৌখিকভাবে জানোনোর পরেও অদৃশ্য কারণে তা দখলমুক্ত করার কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াপদা মোড়ে সওজের জায়গার একাংশ দখলে নিয়ে আরসিসি পিলার করে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন আমেনা খাতুন গং। আমেনা খাতুনের এক ছেলে আজিজুল হক বোয়ালমারী পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর। অপর ছেলে আতিকুল হক পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান মৃধা পিকুল বলেন, ‘এসএ ১২০৪ দাগে জমি ছিল ২০ শতাংশ। ওই জমির মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৭, আবজাল হোসেনের ৮, আমার ২ ও আমেনা খাতুনের ৩ শতাংশ জমি ছিল। কিন্তু রেকর্ডের সময় সড়ক ও জনপথের ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি আমেনা খাতুনের নামে অবৈধভাবে রেকর্ড করে নেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে পৌর কাউন্সিলর আজিজুল হক বলেন, ‘সরকারি জায়গা কমেনি, সঠিকভাবে মাপ হলে ১২০৪ দাগের জমির মালিকরা ঠিকভাবে বুঝে পাবে। আমি কেন সরকারি জায়গা দখল করব।’
অন্যদিকে ওয়াপদা মোড় থেকে চৌরাস্তার দিকে একটু এগিয়ে হাতের ডান পাশে আল নূর চক্ষু হাসপাতালের পাশে সরকারি জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে পৌরসভার আবর্জনা দিয়ে। আল নূর চক্ষু হাসপাতালের সামনেও জলাশয় ভরাট করে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণ করেছে ওই হাসপাতালটি। এর একটু সামনে চৌরাস্তা বাসস্টপেজ সংলগ্ন স্থানে বালু দিয়ে জলাশয় ভরাট করে ইট বিছানোর কাজ চলছে। এভাবে জলাশয় ভরাটের ফলে ওই অঞ্চলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া চৌরাস্তার দক্ষিণ পাশে আমিরুল ইসলাম চৌধুরী ও ছিদ্দিকুর রহমান নামে দুই ব্যক্তি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন সড়ক ও জনপথের জায়গার একাংশ দখলে নিয়ে।
ফরিদপুর সড়ক বিভাগের সার্ভেয়ার শামিম আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা সরকারি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি, একটি দেওয়ানি মামলা রুজুর জন্য। দ্রুত মামলাটি হলে, অবৈধ দখলদারদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী ইমরান ফারহান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবহিত আছি। খুব শিগগির আমরা ব্যবস্থা নেব। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট দিলেই আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব।’
