নারায়ণগঞ্জে দুই উপজেলার ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী এখনো নতুন বই হাতে পায়নি। বই বিতরণ উৎসবের ৩৭ দিন অতিবাহিত হলেও নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলার প্রায় ৭০০ প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঞ্চম শ্রেণির খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করতে না পারার জন্য ছাপাখানার মালিকের খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করেছেন উভয় উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা।
অভিভাবকরা জানান, বছরের প্রথম দিনে বই পাওয়ার কথা থাকলেও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এখনো বই দেওয়া হয়নি। নতুন বইয়ের আশায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে গিয়েও বিমুখ হয়ে ফিরে আসছে। করোনার কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও নতুন বই না পেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে বসানো যাচ্ছে না। জেলার অন্য সব উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম দিন থেকেই বই বিতরণ হলেও দুটি উপজেলায় এখনো পঞ্চম শ্রেণির নতুন বই দেওয়া হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুক্তা বেগম ও বন্দর উপজেলার সোহাগ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাপাখানা থেকে এখনো বই আসেনি। তাই ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। করোনার কারণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ রয়েছে। অনলাইনে ক্লাস করানো হচ্ছে, তাই অনেকেই অনলাইন থেকে ই-বুক ডাউনলোড করে পড়াচ্ছেন। আবার কেউ পুরানো বই দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। নতুন বইয়ের বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়তই মন্ত্রণালয়কে রির্পোট করছি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলার প্রায় ৭০০ প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঞ্চম শ্রেণির ৩৪ হাজার ৭০০ শিক্ষার্র্থী ধরে ২ লাখ ৮ হাজার ২১২টি বই বরাদ্দ করে সরকার। নিয়ম হলো ছাপাখানা বইগুলো প্রস্তুত করে উপজেলা অফিসে হস্তান্তর করবে। তারপর সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসের। কিন্তু এখনো পঞ্চম শ্রেণির একটি বইও ছাপাখানা থেকে এসে পৌঁছায়নি উপজেলাগুলোতে। এবছর এই দুই উপজেলার বই ছাপানোর দায়িত্ব পেয়েছে বন্দরের নবীগঞ্জে অবস্থিত ‘জাহানারা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন’ নামের একটি ছাপাখানা।
জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, আপনারা জানানোর পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। উনি আশ্বস্ত করেছেন, খুব দ্রুত শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে বই তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
