নিউক্লিয়ার ফিউশনে শক্তি উৎপাদনে রেকর্ড

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৩৬ পিএম

নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনের নতুন রেকর্ডের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা।

বুধবার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ফিউশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে অপেক্ষাকৃত কম দামে ও পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনের নতুন রেকর্ড করেছেন।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, এই ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত সূর্যের তাপ উৎপাদিত হয়। এ ছাড়া যে মৌলিক পদার্থ ব্যবহার করে এই বিক্রিয়া ঘটানো হয়, তা অন্য পদার্থে পরিণত হয়।

বলা হচ্ছে, নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হলে তা হবে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ। এ ছাড়া শক্তির বিপুল উৎস হতে পারে এই নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার ফিউশন। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, অদূরভবিষ্যতে শক্তির উৎস হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে।

নিউক্লিয়ার ফিউশন নিয়ে কাজ করা জয়েন্ট ইউরোপিয়ান টোরাসের (জেইটি) বিশেষজ্ঞদের একটি দল যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের কাছাকাছি এই পরীক্ষা চালিয়েছেন। গত ডিসেম্বরে তারা এর পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের অ্যাটমিক এনার্জি অথরিটি বলেছে, পাঁচ মিনিটের পরীক্ষায় ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে, যা ১৯৯৭ সালে একই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত শক্তির দ্বিগুণ।

নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনে মূলত হাইড্রোজেনের দুটি আইসোটোপ ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম ব্যবহার করা হয়। নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়ায় এই হাইড্রোজেন হিলিয়ামে পরিণত হয় এবং নিউক্লিয়াস থেকে নিউট্রন নির্গত হয়। এই নিউট্রনকে তাপ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।

এই পদ্ধতির সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে যুক্তরাজ্যে। সেখানে এই প্রক্রিয়ায় প্লাজমা তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য সূর্যের কেন্দ্রে যে পরিমাণ তাপমাত্রা থাকে, তার যে চেয়ে ১০ গুণ তাপমাত্রায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞানী ও ‘দ্য স্টার বিল্ডার্স: নিউক্লিয়ার ফিউশন অ্যান্ড দ্য রেস টু পাওয়ার দ্য প্ল্যানেট’ বইয়ের লেখক আর্থার টারেল বলেন, এ পরীক্ষা একটি মাইলফলক। কারণ, এই প্লাজমা ৫ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। এরপর হয়তো এই প্লাজমাকে ৫ মিনিট, এরপর ৫ ঘণ্টা, এমনকি এর থেকে বেশি সময় ধরে রাখা সম্ভব হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত