প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য গঠিত সার্চ কমিটির দেওয়া ই-মেইল আইডিতে এরই মধ্যে হাজারখানেক নামের সুপারিশ জমা পড়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে এই সংখ্যা দ্বিগুণ, এমনকি তিনগুণও হতে পারে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
ওই সূত্রগুলো জানায়, জমা হওয়া নামের সুপারিশের মধ্যে বেশিরভাগই সাধারণ মানুষের কাছ এসেছে। কিছু স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি ও এনজিও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও নাম এসেছে ই-মেইলে। নামের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াও লিখে পাঠাচ্ছেন। ‘আজগুবি’ কিছু নাম ও প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যাচ্ছে।
গত শনিবার নতুন ইসি গঠনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ইসি গঠনে করা নতুন আইন অনুযায়ী, সার্চ কমিটি গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করবে কমিটি। সিইসি ও অপর কমিশনারদের প্রতি পদের জন্য দুজন করে মোট ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবে কমিটি। এই ১০ জনের মধ্য থেকে সিইসিসহ ৫ জনকে নিয়ে ইসি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি।
গত রবিবার সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। কমিটি নামের তালিকা করার জন্য রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে নাম আহ্বান করেন।
নাম চেয়ে বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর পর প্রথম দিনেই প্রায় দু’শ নাম ই-মেইল আইডিতে জমা পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেশিরভাগ নাম দেশ থেকে পাঠানো হলেও বিদেশ থেকেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে তাদের পছন্দের নাম প্রস্তাব করে পাঠাচ্ছেন ই-মেইল আইডিতে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ মধ্যপ্রাচ্যের অসংখ্য দেশ থেকে নাম প্রস্তাব করে সুপারিশ আসছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টাই ই-মেইল আইডি খোলা থাকায় এই সুযোগ পেয়েছেন দেশ-বিদেশের সাধারণ মানুষও। এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জানা গেছে, কারও সুপারিশ করা নামই অগ্রাহ্য করা হচ্ছে না। গুরুত্ব দিয়ে নামগুলো ফাইল করছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশ-বিদেশ থেকে ২৪ ঘণ্টাই নাম সুপারিশ করে ই-মেইল আসছে।’ এ সংখ্যা কেমন হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ই-মেইলে কেমন সাড়া পড়েছে তা আমরা জানিয়ে দেব।’
শফিউল আজিম আরও বলেন, ‘এখন আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো নিয়ে ব্যস্ত আছি। গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত নিবন্ধিত সব দলকেই চিঠি পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। নাগরিক সমাজকেও ডিজিটাল মাধ্যমে নাম সুপারিশ করার অনুরোধ জানিয়েছি। ই-মেইলে প্রতি মুহূর্তেই নাম আসছে।’ তিনি জানান, পাঠানো সকল নামই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
