চুরি ও ছিনতাই দিয়ে অপরাধ জগতে প্রবেশ তার। এরপর অবৈধ অস্ত্র ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ে সে। অবৈধ এসব কারবারের অর্থ দিয়ে নিজের বাবার কবরের ওপর মাজার গড়ে তোলে। শরীয়তপুরে নিজ বাড়িতে কোটি টাকার স্থাপনাও নির্মাণ করে আব্দুল্লাহ মনির ওরফে পিচ্চি মনির।
র্যাব তাকে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের অস্থায়ী মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব বলেন।
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার মনির নিজ বাড়ি শরীয়তপুরে কোটি টাকার স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এলাকায় প্রচারের উদ্দেশ্যে মাদক কারবারের টাকা দিয়ে তার বাবার কবরের ওপর চাতক শাহ নামে একটি মাজার নির্মাণ করেছেন।’
র্যাব জানায়, জীবিকার প্রয়োজনে ১৯৯৫ সালে ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় আসে মনির। তারপর পুরান ঢাকার স্থানীয় অপরাধীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। জড়িয়ে পড়েন চুরি, ছিনতাইয়ে। পরে শুরু করেন অস্ত্র কারবারও। শুরুতে রাজধানীর আটটিরও বেশি এলাকায় কয়েকজন খুচরা কারবারির কাছে মাদক সরবরাহ করতেন মনির। পরবর্তী সময়ে বড় মাদক কারবারি হয়ে ওঠেন পিচ্চি মনির।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মনির ও তার সহযোগী জুবায়ের হোসেনকে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ১২টি গুলি, ১৮ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবা, ছয় গ্রাম আইস এবং মাদক বিক্রির চার লাখ ৬০ হাজার টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির মাদক ও অস্ত্র কারবারে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন জানিয়ে বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার মঈন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব-২ এর একটি দল রাজধানীর হাজারীবাগের মধুবাজারের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। অভিযানে মাদক কারবারের অন্যতম হোতা আব্দুল্লাহ মনির ওরফে পিচ্চি মনির ও জুবায়ের হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, ২০১২ সালে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় মনির ও তার বন্ধু পার্টনারশিপে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে স্থানীয় মাদক ডিলারদের কাছ থেকে অল্প মাদকদ্রব্য কিনে খুচরা কারবারিদের কাছে বিক্রি করতেন তারা। ২০১৬ সালে কক্সবাজারের ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে মনিরের নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। এরপর টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে তার কাছে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করা হতো। মনির ও তার দলের সদস্যরা ঢাকা থেকে কক্সবাজারে গিয়ে মাদকের চালান নিয়ে আসতেন। মূলত তারা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করতেন। শতকরা ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম পেমেন্টের মাধ্যমে ইয়াবা ঢাকায় আনা হতো।
র্যাব আরো জানায়, মাদকের ডেলিভারি ও লেনদেন মনিরের ভাড়া বাসায় বা সুবিধামতো জায়গায় হতো। তিনি ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ভাড়াটিয়া ছদ্মবেশে মাদকের গোপন কারবার করতেন।
