তালেবানরা দুই যুগের ব্যবধানে আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর দেশটির রিজার্ভ আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান সরকার এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপও নিতে পারছে না আফগানিস্তান। চীন ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ তালেবানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লবি করে যাচ্ছে। তবে অর্থাভাবে দেশটিতে মানবিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে জব্দ থাকা আফগান অর্থের কিছু অংশ ছাড়ে রাজি হতে হয়েছে। যদিও এক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছেন বাইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা আফগানিস্তানের ৭ বিলিয়ন অর্থাৎ সাতশ কোটি ডলার সম্পদের অর্ধেক ৯/১১-’র হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। বাকি অর্থ খরচ হবে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে আর্থিক সংকটে থাকা মানুষদের সহায়তার জন্য। আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে জমা থাকা ওই অর্থ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার এ ধরনের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, জব্দ করা আফগান অর্থ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা চলছে। বিচারিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ওই অর্থের দাবি করে মামলাটি করেন। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের মানুষদের সহায়তার জন্য একটি খসড়া করা হয়েছে যে কীভাবে এই ফান্ডের অর্থ তাদের কাছে পৌঁছানো যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আফগানিস্তানের জব্দ করা অর্থের মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলার আফগানদের মানবিক সহায়তার জন্য গঠন করা তহবিলে যুক্ত করার অনুমতি চাইবেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। বাকি অর্থ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রাখা হবে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলে নেয় তালেবান। এরপর ৩১ আগস্ট টানা ২০ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশটি থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা। এরপর রাজনৈতিক গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেয় বহু আফগান পরিবার। কিন্তু যারা দেশ ছাড়তে পারেননি তারা পড়েন চরম বিপাকে। তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দেশটিতে।
