কান্দিল বালুচের ভাইকে খালাস দিলো আদালত

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৫৯ পিএম

পরিবারের সুনাম নষ্ট করার অভিযোগে পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া সেলিব্রিটি ২৬ বছরের কান্দিল বালুচকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করেন বড় ভাই মোহাম্মদ ওয়াসিম। ২০১৬ সালের এই ঘটনায় ওয়াসিমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তবে ৬ বছর জেল খাটার পর খালাস পাচ্ছেন তিনি।

গ্রেপ্তারের পর ওয়াসিম বলেছিলেন, বোনকে খুন করে তিনি মোটেও অনুতপ্ত নন। তার বক্তব্য ছিল, পরিবারের সুনাম যে নষ্ট করবে, তাকে এভাবেই শাস্তি পেতে হবে। প্রয়োজনে আবারও অস্ত্র ধরবেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি-কে ওয়াসিমের আইনজীবী জানিয়েছেন, মুলতানের একটি আদালত তার মক্কেলকে বেকসুর খালাসের রায় দিয়েছে। যদিও আদালতের রায় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

বলা হচ্ছে, এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ জেল থেকে মুক্তি পাবেন ওয়াসিম।

২০১৬ সালে ওয়াসিমের শাস্তির পাশাপাশি মানসিক চিকিৎসা করানোর দাবি উঠেছিল।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ছেলেকে ক্ষমা করে দেওয়ার আরজি নিয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন কান্দিল, ওয়াসিমের মা-বাবা। তাতেই কি যাবজ্জীবন বদলে গেল মুক্তিতে? তবে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

কান্দিল বালুচের প্রকৃত নাম ফৌজিয়া আজিম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা ও সাহসী বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত ও বিতর্কিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন খোলামেলা ছবি পোস্ট করতেন কান্দিল। এক সাক্ষাৎকারে ছবি নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি পাকিস্তানের সমাজে পুরুষতান্ত্রিকতার তীব্র সমালোচনা করেন। বলেন, ‘এই সমাজে কোনো কিছুই ভালো না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সবই খারাপ।’

মৃত্যুর সপ্তাহ তিনেক আগে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন অথোরিটির কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন কান্দিল। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, তার জীবন হুমকির মুখে, বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া মুফতি আবদুল কাউই নামক এক আলেমের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে আলোচনার ভিন্নমাত্রা যোগ করেন কান্দিল। ওই ছবির জের ধরে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। ওই আলেমকেও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রুয়েত-এ-হিলাল কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাবের দেরা গাজী খান জেলার শাহ সদর দিনে আদিবাসী এলাকায় বেড়ে ওঠেন কান্দিল বালুচ। বাস হোস্টেস হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু তার। বেশ কিছু চাকরি করার পর তিনি মডেলিংয়ে সুযোগ পান। তখন নাম বদলে নেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত