নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি গত ২৫ বছর ধরে বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ইতিমধ্যে মেশিনটি পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার পথে রয়েছে। এক্স-রে মেশিনটি পরিচালনার জন্য রেডিওলজিস্ট না থাকা ও চাহিদামাফিক নির্দিষ্ট ভোল্টেজের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মেশিনটি বাক্সবন্দি হয়ে আছে। ১৯ বছর আগে রেডিওলজিস্ট থাকার সময়ও এ এক্স-রে মেশিনটি ব্যবহার করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের উচ্চমূল্যে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রায় ২৫ বছর আগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জিসি কোম্পানির ১০০ এম এ এক্স-রে মেশিনটি সরবরাহ করা হয়। নতুন অবস্থায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে মেশিনটিতে এক্স-রে করা সম্ভব হয়নি। ২০০২ সালে রেডিওগ্রাফার মো. মাসুদ বদলি হওয়ার পর অদ্যাবধি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ পদটি শূন্য রয়েছে। রেডিওগ্রাফারের শূন্য পদ পূরণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে ১৯ বছর ধরে চিঠি চালাচালি হলেও কিছুই হয়নি।
দীর্ঘদিন এভাবে ফেলে রাখায় ইতিমধ্যে এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট হওয়ার পথে। গত ২০০৬ সালে নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসের টেকনিশিয়ানদের একটি দল এক্স-রে মেশিনটি পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তারা মেশিনের এক্সপোজার সুইচ, টাইমার, ফ্লুরসকপিসহ বিভিন্ন অংশে কিছু ত্রুটি দেখতে পান। ত্রুটিগুলো সারিয়ে মেশিনটি সচল করা সম্ভব হলেও গত ১৫ বছরেও তা করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এক্স-রে মেশিনের কক্ষটি তালাবদ্ধ। রোগীদের এক্স-রে করার জন্য ছুটতে হয় হাতিয়ার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা হাতিয়ার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে।
আলাপকালে কয়েকজন রোগী জানান, চিকিৎসকরা তাদের ব্যবস্থাপত্রে এক্স-রে-সহ অন্যান্য পরীক্ষা করার কথা লিখেছেন। কিন্তু এখানে এক্স-রে বা পরীক্ষাগুলো করা যায় না। স্থানীয় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে ও পরীক্ষাগুলো করাতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টেকনোলজিস্টের অভাবে প্রায় ২৫ বছর ধরে মেশিনটি বাক্সবন্ধি পড়ে আছে। শূন্যপদ পূরণ এবং এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করা অথবা নতুন এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করার জন্য প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পাওয়ায় হাসপাতালে রোগীদের কোনো এক্স-রে করা যাচ্ছে না।’
