ভাসানচরের পথে আরও ১৬৭৮ জন রোহিঙ্গা

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:০৩ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ৫৬০ পরিবারের আরও ১ হাজার ৬৭৮জন রোহিঙ্গা। বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে দুই ধাপে উখিয়া কলেজ মাঠ থেকে এসব রোহিঙ্গাদের বহনকারী ৪০টি বাস চট্টগ্রাম পথে রওনা দেয়। ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে, এদিন সকালে স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের গাড়িতে করে প্রথমে উখিয়া মাঠে নিয়ে আসা হয়। সেখানে উন্নতমানের খাবার দেয়া হয়। পরে, জনপ্রতি ৫ হাজার করে টাকাও দেয়া হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার সকালে নৌবাহিনীর জাহাজে করে তাদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা করা হবে।

জাতীয় তদন্ত সংস্থার তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম পরিচালনা করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)।

আরআরআরসি কার্যালয়ের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ শামছু-দ্দৌজা বলেন, বুধবার রোহিঙ্গাদের আরও একটি দল নোয়াখালীর ভাসানচর আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ যুক্ত হওয়ার পর এটি ভাসানচরে দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম। এর আগে পর্যায়ক্রমে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয় প্রায় ২১ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা।

তিনি আরও বলেন, ভাসানচরে যেতে অনেক রোহিঙ্গার আগ্রহ থাকলেও ক্যাম্প কেন্দ্রিক কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তাই ভয়ে যেতে সাহস পাচ্ছে না অনেকে।

এ ব্যাপারে ১৪-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

আরআরআরসি অফিস সূত্র জানায়, কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরের আশ্রয় শিবিরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে আসে আরও কয়েক লাখ। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে এসব রোহিঙ্গা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত