পুনরুদ্ধারের সুযোগ চায় ভুল করা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৪৩ পিএম

ই-কমার্সে ভুল করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আলেশা মার্ট চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম সিকদার। গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে এ দাবি তুলে ধরেন তিনি।

পেমেন্ট গেটওয়ে এসএসএল কমার্জ লিমিটেডের কাছে আলেশা মার্টের গ্রাহকদের আটকে থাকা টাকা ফেরত দেওয়ার ওই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ডিজিটাল কমার্স প্রধান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান, ই-ক্যাব ভাইস চেয়ারম্যান সাহাবউদ্দিন শিহাবসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আলেশা মার্ট চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম সিকদার বলেন, ‘যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় পলিসিগত ভুল করেছে, কিন্তু গ্রাহকের টাকা মেরে বিদেশে পাচার করেনি, তাদের আইনি সহায়তা দিয়ে ব্যবসা করার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি, অনেকের টাকা গেটওয়েতে রয়েছে। আইনগতভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে রেখে টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন। কারণ অথরিটি লাগবে। স্বাক্ষর লাগবে।’ এ খাতের ব্যবসা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

এ উদ্যোক্তা বলেন, ‘পলিসিগত ভুলের কারণে একজনের টাকা আরেকজনের পকেটে চলে যেতে পারে। কিন্তু অর্থ পাচারের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। যে প্রতিষ্ঠানের টাকা দেশের মধ্যে থাকবে, সেই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করাটা ভালো উদ্যোগ হতে পারে না।’

নিজের প্রতিষ্ঠানের (আলেশা মার্ট) অবস্থান জানিয়ে মঞ্জুরুল দাবি করেন, ‘আসলে এ ঘটনাটি কোনোভাবে ঘটে গেছে। রিকোভার করার সুযোগটা থাকতে হবে। আইন দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমাদের ক্যাপাসিটি আছে। ক্যাপাসিটি ও ক্যাশমানির মধ্যে পার্থক্য আছে। আমাদের বিজনেস স্ট্রাকচার আছে। সম্পদ আছে। লায়াবিলিটি খুব কম। আশা করি আমরা ওভারকাম করব।’

গত বছর ইভ্যালি লিমিটেড ও এ ধরনের ৩০-৩২টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানে। এছাড়া ইভ্যালির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক নিরীক্ষা করে জানতে পারে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের তুলনায় দেনা ছয়গুণেরও বেশি। এছাড়া পণ্য বিক্রি থেকে পাওয়া মূল্যের তুলনায় খরচ অনেক বেশি। এসব নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে এসক্রো পদ্ধতিতে পণ্য সরবরাহের পর মূল্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর চালু করা হলে ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, আনন্দের বাজারসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান মুখ থুবড়ে পড়ে। গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না করায় দায়ের করা মামলায় ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনেক উদ্যোক্তা পলাতক।

ই-কমার্স প্রতারণার বিষয়টি তুলে ধরে মঞ্জুরুল বলেন, ‘বাজার ধরতেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য বিক্রিতে ভর্তুকি দিয়ে ব্যবসা করছে। তবে একটা সময় ভর্তুকির নামে দেশে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হতো। কিছু কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এ ভর্তুকিকে টাকা কামানোর প্ল্যাটফর্ম বানিয়ে নিয়েছিল। সে কারণে আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এটা ৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার বাজারে পরিণত হবে। এর জন্য ই-কমার্সকে আস্থার জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। কাজটি ব্যবসায়ীদেরই করতে হবে। তাই ব্যবসায়ীদেরও ব্যবসা পুনরুদ্ধারের সুযোগটা থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে এসএসএল কমার্স পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা আলেশা মার্টের ১০ গ্রাহকের ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা হস্তান্তর করা হয়।

মঞ্জুরুল আলম সিকদার আশা করেন, আগামী জুনের মধ্যে তাদের সব টাকা পরিশোধ হয়ে যাবে। রমজান এবং করোনার জন্য দুই-চার-পাঁচ দিন এদিক-ওদিক হতে পারে কিন্তু তারা চান ৩০ জুনের মধ্যে শতভাগ দেনা পরিশোধ করতে। আলেশা মার্টের কাছে সাত-আট হাজার গ্রাহক টাকা পান। গ্রাহকদের এ টাকা ফেরত দিতে ২৩০ কোটি টাকা ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এ টাকা কোনো না কোনোভাবে ম্যানেজ করতে হবে। আশা করছি খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমরা এটির সমাধান করতে পারব। আশা করছি আমরা ওভারকাম করব, এ দেশে ওভারকাম করতেই হবে।’ শুধু গ্রেপ্তার করা কখনো সমাধান হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন আলেশা মার্ট চেয়ারম্যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত