ইউক্রেন সীমান্ত থেকে রাশিয়ার সৈন্য প্রত্যাহার শুরুর মধ্য দিয়ে মনে করা হচ্ছিল সংকটময় অবস্থার অবসান হচ্ছে। কিন্তু শেষ হয়েও শেষ না হওয়ার মতো করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে সংঘাত শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলছে, রাশিয়ার ছোড়া গোলার আঘাতে তাদের দুজন সেনা আহত হয়েছেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করছে, গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রুশপন্থি মিলিশিয়ারা ৩৩ বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। এই ৩৩ বারের মধ্যে ২২ বারই গোলা হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ ইউক্রেনের।
ইউক্রেনের সরকারি বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে গোলা বিনিময়ের ঘটনায় দেশটিতে ‘রাশিয়ার আগ্রাসন অত্যাসন্ন’, পশ্চিমা দেশগুলোর এমন আশঙ্কা ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, সম্ভাব্য হামলাকে নায্যতা দেওয়ার জন্য মস্কো একটি অজুহাত প্রস্তুত করছে। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন বলেছেন, ‘তারা এগিয়ে যাওয়ার অজুহাত তৈরির জন্য মিথ্যা হামলার ভান করায় ব্যস্ত, আমাদের এমন বিশ^াস করার কারণ আছে। আমাদের কাছে থাকা প্রতিটি ইঙ্গিতে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, তারা ইউক্রেনে প্রবেশের ও হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের প্রায় অধিকাংশ এলাকাই এখন রুশপন্থি লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক (এলপিআর) এবং দনেতস্ক পিপলস রিপাবলিকের (ডিপিআর) নিয়ন্ত্রণে। এই দলগুলোর একটিও ইউক্রেন সরকারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নয়। এমনকি রাশিয়ারও
স্বীকৃতি পায়নি দল দুটি। ফলে এদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলাপে যেতে রাজি নয় ইউক্রেন সরকার। ২০১৫ সালের মিনস্ক দ্বিতীয় চুক্তি অনুসারে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে এখন অস্ত্রবিরতি চলছে। কিন্তু ইউক্রেনের মাটিতে থাকা রুশপন্থিরা যেভাবে হামলা চালাচ্ছে তাতে একে চুক্তি লঙ্ঘন সরাসরি বলা যাচ্ছে না।
এদিকে উভয় দেশের মধ্যে চলমান সংকটকে আরও উসকে দিতেই যেন আজ শনিবার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষা করতে যাচ্ছে রাশিয়া। আর এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘কৌশলগত ও পরিকল্পিত অনুশীলনের অংশ হিসেবেই ভøাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এই অনুশীলনে অ্যারোস্পেস ফোর্স, মিসাইল ফোর্স এবং নর্দার্ন ও কৃষ্ণ সাগরে থাকা ফ্লিট অংশ নেবে।’ ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, পুতিন নিজে এমন অনুশীলন প্রত্যক্ষ করবেন। কারণ রাষ্ট্রের প্রধান ছাড়া এমন অনুশীলন করা যায় না। পুতিন নিজেই মিসাইলের লাল বোতাম চাপবেন বলেও তিনি জানান।
রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা বার্ট গোরম্যানকে বহিষ্কার করেছে দেশটির সরকার। গত বৃহস্পতিবার মস্কো এই বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র। রয়টার্সকে ওই মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের দূতাবাসের উপপ্রধান কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা রাশিয়ার একটি অপ্রস্তুত পদক্ষেপ। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এটি প্রভাব ফেলবে এবং মস্কোর এই পদক্ষেপের জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা আমরা বিবেচনা করছি।’ অবশ্য ঠিক কী কারণে ওই কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছে, সে-সম্পর্কিত কোনো ব্যাখ্যা এখনো দেয়নি মস্কো।
