ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তুলে জয় উপহার দিয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে গড়েছেন রেকর্ড জুটি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক আফিফ হোসেন ধ্রুব। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে যিনি জানিয়েছেন, যেভাবে সফল হয়েছেন সেই গল্প।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী বুধবার আফগানিস্তানকে ৪ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ২১৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৫ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল স্বাগতিকেরা। সেখান থেকে অবিচ্ছিন্ন ১৭৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় উপহার দেন আফিফ ও মিরাজ।
আফিফ ১১৫ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৯৩ রান করেন। অন্য প্রান্তে মিরাজ ১২০ বলে ৯ চারে অপরাজিত ৮১ রান করেন। ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচসেরা হন মিরাজ। তবে আফিফের কৃতিত্ব তাতে কমছে না। ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল’ ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন আফিফই।
সংবাদ সম্মেলনে এসে আফিফ জানালেন, ‘নরমাল ক্রিকেট’ খেলাটাই লক্ষ্য ছিল তার ও মিরাজের। বলছিলেন, ‘৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আমাদের শুধু একটাই লক্ষ্য ছিল, আমরা উইকেট দেব না। উইকেট না দিয়ে যতক্ষণ ব্যাটিং করা যায় এই লক্ষ্য নিয়েই ব্যাট করছিলাম।’
আফিফ যোগ করেন, ‘উইকেট দেব না। রান যেটা আসতে থাকবে আসবে, না আসলে কিছু করার নাই। শেষের দিকে তো খেলা বল টু বল ছিল। ওই সময় জাস্ট নরমাল ক্রিকেট খেলাই লক্ষ্য ছিল।’
শুরুতেই ৪ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেন তরুণ পেসার ফজলহক ফারুকি। পরে উইকেট উৎসবে যোগ দেন অফ স্পিনার মুজিব উর রহমান ও লেগি রশিদ খান।
মুজিব ও রশিদের সঙ্গে মোহাম্মদ নবি মিলে আফগান স্পিন আক্রমণ বিশ্বমানের। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে সেই আক্রমণ সামলাতে হয়েছে আফিফ-মিরাজকে।
সপ্তম উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ১৭৪ রানের জুটিটি শুধু বাংলাদেশের সেরা (সপ্তম উইকেটে) জুটিই নয়, ওয়ানডেতে সবমিলেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি এটি। মাত্র ৩ রান বেশি নিয়ে এক নম্বরে ইংল্যান্ডের জস বাটলার ও আদিল রশিদ।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে অধিনায়ক তামিম ইকবাল তো বলেই দিলেন, ভাবেননি ম্যাচটা জিততে পারবেন। শেষ পর্যন্ত জয় আসায় আফিফ-মিরাজকে পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি।
আফগান স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে উইকেট না দেওয়ার পরিকল্পনায় ব্যাটিং করেছেন বলে জানালেন আফিফ। তার কথায়, ‘ওদের যে তিন স্পিনার ছিল, তাদের বিপক্ষে প্ল্যান ছিল নরমাল খেলা। ওদের ওভার শেষ হলে ৫ ওভার বাকি থাকত। প্ল্যান ছিল, শেষ ৫ ওভারে যদি ৩০, ৪০ বা ৫০ রানও লাগে চেষ্টা করব চেজ করতে। স্পিনারদের উইকেট না দিয়ে ব্যাটিং করার পরিকল্পনা ছিল।’
আফিফ প্রশংসা করেন মিরাজের ব্যাটিংয়ের, ‘মিরাজ ভাই অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে। যখন বাউন্ডারি দরকার ছিল, তখন বাউন্ডারি আসছে। দুজনের কথা অনেক ভালো হচ্ছিল। দুজনই বুঝতে ছিলাম, উইকেট না দিয়ে ম্যাচ জেতা সম্ভব। সেই চেষ্টাই করছিলাম দুজন।’
তবে পুরো খেলায় জয় নিয়ে দুজনের কোনো আলাপ হয়নি বলে জানালেন আফিফ, ‘পুরো খেলাটায় জেতার ব্যাপারে আমরা কোনো কথা বলিনি। কথা এটাই ছিল, আমরা উইকেট দেব না। শেষ পর্যন্ত ট্রাই করব।’
আরো পড়ুন
