ফেনী জেনারেল হাসপাতালে জনবল সংকট

অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় ১৭০০ রোগী

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:০৩ এএম

ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত প্রায় ১ হাজার ৭০০ রোগীকে অপারেশনের জন্য দীর্ঘ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে অসহনীয় রোগ যন্ত্রণায় ভুগছেন রোগীরা। জনবলসহ নানা সংকটের কারণে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, লোকবল সংকট, অপারেশন থিয়েটার স্বল্পতাসহ নানা কারণে সার্জারি বিভাগে রোগীজট বাড়ছে।

চৌদ্দগ্রামের শিলরী গ্রামের মিজানুর রহমান হার্নিয়ার রোগী। অপারেশনের জন্য হাসপাতালে এসেছেন। তাকে অপারেশনের তারিখ দেওয়া হয়েছে ২৬ জুন। প্রচ- ব্যথার কারণে কোনো কাজ করতে পারছেন না বলে জানান তিনি। হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও লোকবল রয়েছে সেই ১০০ শয্যারই।

সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষ রোগীতে ভরপুর। ২৪ ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, শুধু সার্জারি বিভাগে অপারেশনের রোগীর তালিকায় রয়েছেন ১ হাজার ৭৩৮ জন। এসব রোগীকে আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত অপারেশনের তারিখ দিয়ে বাড়িতে অপেক্ষা করতে ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের রেজিস্টার্ড খাতায় ২০২০ সালের রোগীও রয়েছেন অপেক্ষমাণ তালিকায়। আগামী আগস্ট পর্যন্ত আর কোনো তারিখ খালি নেই।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে সপ্তাহে ছয় দিন অপারেশন করা হয়। সার্জারি, অর্থোপেডিক, চক্ষু, গাইনি বিভাগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দিন ধার্য রয়েছে। এর মধ্যে সার্জারি বিভাগে দুই দিনে ১৪-১৫টি অপারেশন করা হয়। অথচ এ বিভাগে গড়ে প্রতি সপ্তাহে ২২-২৩ জন রোগী আসেন অপারেশনের জন্য। সিনিয়র কনসালট্যান্টসহ মাত্র চারজন চিকিৎসক এসব রোগী সামাল দেন।

হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট কামরুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে ১ হাজার ৭৩৮ রোগী অপারেশনের জন্য অপেক্ষমাণ। সপ্তাহে দুই দিন অপারেশন থিয়েটার পাওয়া যায়। বাকি দিন অন্যান্য বিভাগ অপারেশন করে। এ হিসাবে মাসে আট দিন অপারেশন করতে পারি। এর মধ্যে জটিল রোগ, বিভিন্ন দুর্ঘটনাসহ জরুরি ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক কিছু রোগীর অপারেশন করতে হয়। বাকি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়িতেই থাকতে বলা হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পর্যাপ্ত অপারেশন থিয়েটার, চিকিৎসক, অবেদনবিদ, অভিজ্ঞ নার্স ও ওয়ার্ড বয় নিয়োগ দিতে হবে। তবেই জট খুলে যাবে।’

ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী বলেন, ‘জনবল ও অবকাঠামো সংকটের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

ফেনীর সিভিল সার্জন রফিক উস সালেহীন বলেন, ‘ফেনীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নতির কারণে আশপাশের জেলা থেকে অনেক রোগী ফেনী জেনারেল হাসপাতালে আসেন। জনবল ও অবকাঠামো বৃদ্ধি না করলে রোগীজট নিয়ে যে সমস্যা, তা দূর করা কঠিন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত