দেশের এক কোটি মানুষকে আজ করোনা ভাইরাসের প্রথম ডোজ টিকা দিচ্ছে সরকার। টিকা পেতে কোনো ধরনের নিবন্ধন কিংবা কাগজপত্র লাগবে না। জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, এমন ব্যক্তিরাও আজ নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন।
শনিবার সারা দেশের মতই শরীয়তপুর জেলায় টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত আছে। গণটিকা সারা দেশে এক কোটি মানুষের একদিনের টিকা নেয়ার যে কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলাতে টিকা দেয়া হচ্ছে।
স্বাভাবিক টিকা দেয়ার পাশাপাশি একটি অনন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ টিকা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। যে ব্যক্তিরা হাটে বাজারে অবস্থান করছেন, যারা খুব অসুস্থ বাসায় অবস্থান করছেন টিকা দিতে আসতে পারেন না। তাদের জন্য বাজারে, বাড়িতে ও রাস্তাতে টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা টিকা কেন্দ্রে আসতে পারবেন না তাদের জন্য এটা একটি অনন্য উদ্যোগ। দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ টিকা দেয়া হবে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনদীপ ঘরাই বলেন, ভ্রাম্যমাণ টিকা বুথে যারা আসছেন, তাদের সবাইকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন বা পরিচয়পত্র না থাকলে মুঠোফোন নম্বরের মাধ্যমে টিকা কার্ড করে দেওয়া হচ্ছে। এ কার্ডই টিকার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
আজ সকালে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং ইউনিয়নের বালাখানা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ টিকা বুধের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান। এ সময় শরীয়তপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল হাসেম তপাদার, ইউএনও মনদীপ ঘরাইসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
টিকে নেয়া সদর উপজেলার বালাখানা এলাকার আলেয়া বেগম, পূর্ব কোটাপাড়ার জয়নাল আবেদিন, জাহিদুল ইসলাম শেখ শিহাব শেখ ও দাসাত্তা ফরিদা আক্তার বলেন, আমরা করোনা টিকা দেইনি। ভ্রাম্যমাণ টিকা বুথ পেয়ে টিকা দিলাম। এমন উদ্যোগ না নেয়া হলে হয়তো বা টিকা দেয়া হতো না। জেলা প্রশাসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
