অভাবে ১০ হাজার ধার চেয়ে পান ২ লাখ টাকায় খুনের প্রস্তাব, অতঃপর…

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:১৬ পিএম

প্রতিনিয়ত ফ্যাক্টরির মালামাল চুরির প্রতিবাদ করে মালিককে বলে দিতে চাওয়ায় বগুড়ায় আব্দুল হান্নান (৪৫) ও সামছুল হক (৬৬) নামের দুই নৈশপ্রহরীকে হত্যা করে একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান তিন কর্মচারী। পরে হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে চালিয়ে দিতে তারা মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

রবিবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী তার কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বগুড়া শহরের বিসিক শিল্প নগরীর মাছু মেটাল ইন্ডাস্ট্রির গাড়িচালক শাজাহানপুর উপজেলার চকলোকমান এলাকার মৃত মিসবাহুল মিল্লাত নান্নার ছেলে হোসাইন বিন মিল্লাত ওরফে নিনজা (৩৪), ওই গাড়ির হেলপার বগুড়া শহরের নারুলী তালপট্টি এলাকার বদিউজ্জামন প্রামাণিকের ছেলে রাহাত প্রামাণিক (২১) এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মচারী নারুলী এলাকার সায়েদ হাসান ব্যাপারীর ছেলে সুমন ব্যাপারী (২৭)।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় গ্রেপ্তারকৃতরা বগুড়া শহরের শহীদ খোকন পার্কে বসে দুই নৈশপ্রহরীকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, খোকন পার্কে আড্ডা দেওয়ার সময় মাছু মেটালের সাবেক কর্মচারী সুমন ব্যাপারী নিজের আর্থিক দৈন্যের কথা অপর দুজনকে জানিয়ে ১০ হাজার টাকা ধার চান। এ সময় গাড়িচালক ও হেলপার ওই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিলে সুমনকে ২ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

সেই অনুয়ায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনসহ পাঁচজন ফ্যাক্টরি থেকে মালামাল পরিবহনের অজুহাতে ড্রাইভার ও হেলপারের সহযোগিতায় ফ্যাক্টরির ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর নৈশপ্রহরী আব্দুল হান্নানকে কৌশলে ফ্যাক্টরির পেছনে পানির ট্যাংকির কাছে নিয়ে গিয়ে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ট্যাংকির মধ্যে ফেলে দেন।

এরপর অপর নৈশপ্রহরী সামছুল হককে ঘুম থেকে ডেকে তুলে একই কায়দায় হত্যার পর ট্যাংকির পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

দুজনকে হত্যার পর নৈশপ্রহরী হান্নানের মোবাইল ফোন সুমন ব্যাপারীকে দিয়ে গাজীপুর চলে যেতে বলে এবং ফ্যাক্টরির মালিক ও নিহতের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির পরামর্শ দেন গাড়ি চালক ও হেলপার।

এ দুজনের পরামর্শে সুমন প্রথমে গাবতলী ও পরে গাজীপুরে গিয়ে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ফ্যাক্টরির পানির ট্যাংকি থেকে দুই নৈশপ্রহরীর মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মামলা হলে বগুড়া ডিবি পুলিশের সদস্যরা ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর থেকে প্রথমে সুমন ব্যাপারীকে এবং পরে অপর দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত অপর দুজনকে শনাক্ত করা গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত