জানালাবিহীন দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৪৯ এএম

আধুনিক যুগে চোখ ধাঁধানো দৃষ্টিনন্দন এক অনন্য স্থাপনা লক্ষ্মীপুরের আস-সালাম জামে মসজিদ ও ঈদগাহ সোসাইটি। এ স্থাপনার অসংখ্য বৈশিষ্ট্যের অন্যতম হচ্ছেদোতলা মসজিদটিতে কোনো জানালা নেই। মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশের জন্য রয়েছে একটি প্রবেশদ্বার। তবুও আলোর কমতি নেই মসজিদের ভেতরে। প্রাকৃতিক আলোয় আলোকিত থাকে এ মসজিদটি।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের শেখের কেল্লা এলাকায় অবস্থিত এ মসজিদটি বিগত একশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে নির্মিত একটি বিরল স্থাপনা। ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই মসজিদটির তথ্যচিত্র সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচার কনফারেন্সে পাঠানো হয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য। এটি আধুনিককালে লক্ষ্মীপুর জেলা ও বাংলাদেশে নির্মিত স্থাপনার মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন। এমন দাবি আগত দর্শনার্থী ও নির্মাতা স্থপতিদের।

নির্মাতাদের সূত্রে জানা গেছে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ আর জনহিতকর কাজের অংশ হিসেবে স্থানীয় রহিমা মমতাজ ও সাইফ সালাহউদ্দিন ট্রাস্ট নিজেদের জায়গায় জনহিতকর কাজের অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এ মসজিদ নির্মাণ শুরু করে। মসজিদটির নকশা তৈরিতে বাংলাদেশি একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান এবং সঙ্গে ছিল বিদেশি কয়েকজন স্থপতি।

বিরতিহীন কাজের পর ২০২১ সালের শেষের দিকে মসজিদটি মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। প্রায় দশ হাজার বর্গফুট দোতলা এ মসজিদ নির্মাণ ব্যয় পুরোটা বহন করেছে রহিমা মমতাজ ও সাইফ সালাহউদ্দিন ট্রাস্ট। চোখ ধাঁধানো ডিজাইন আর নজরকাড়া নকশায় নির্মিত এ মসজিদটি বাংলাদেশে আধুনিক নির্মাণ শৈলীর অনন্য নজির। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু দর্শনার্থী ছুটে আসছেন এ মসজিদটি দেখার জন্য।

মসজিদের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সেখানে ইবাদত করতে আসা মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে বসেই রোদ, বৃষ্টি, কুয়াশা উপভোগ করতে পারে। কারণ এ মসজিদটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এর ভেতরে রোদ, বৃষ্টি সরাসরি এসে পড়ে। মুসল্লিরা উপভোগ করতে পারবেন, কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজবে না ও রোদে পুড়বে না।

গরমের সময় মসজিদকে শীতল রাখার জন্য মসজিদের ভেতরে রয়েছে বৃষ্টির পানি ও পানি সংরক্ষণের জন্য চারটি জলাধার। জলাধারগুলোতে রাখা পাথর গ্রীষ্মকালে মসজিদকে শীতল করে রাখে। দোতলা এ মসজিদটির নিচতলা দুভাগে বিভক্ত। সামনে মেহরাব ও মসজিদের মূল অংশ। এর পেছনে মাঝ বরাবর গলিপথ। তার দুপাশে শীতল জলাধার এবং রোদ, বৃষ্টির পবেশ পথ। মুসল্লিদের জন্য একটি প্রশান্তময় স্থান তৈরি করতে মসজিদে নরম প্রাকৃতিক আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। পেছনের অংশে বড় গ্যালারির মসজিদ। যেখানে বসে মুসল্লিরা নিজ মনে ইবাদত করতে পারে। গ্যালারি অংশের পেছন থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি। দোতলায় রয়েছে মহিলাদের নামাজ পড়ার জায়গা। পুরো মসজিদে একসঙ্গে সাড়ে চারশ’ মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন।

নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি ঈদগাহ হিসেবেও ব্যবহার করা হবে আস সালাম মসজিদ। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর আগত শিশু ও মুসল্লিদের মধ্যে মিষ্টান্ন বিতরণ করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এমন দৃষ্টিনন্দন ও জটিল নির্মাণশৈলীর আস সালাম মসজিদ লক্ষ্মীপুরকে সারা দেশে এমনকি বিশ্ববাসীর কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত