রুশপন্থি সরকারের ছক চূড়ান্ত!

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ১২:৪১ এএম

এক সপ্তাহ আগে রুশ অভিযান শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলে আসছেন রাশিয়ার আসল নিশানা তিনি। তাকে উৎখাত করে নিজের সরকার গড়তে চায় মস্কো। রাশিয়া ভেতরে ভেতরে সেই প্রস্তুতি যে নিয়ে রেখেছে এবং ইউক্রেনের ক্ষমতায় কাকে বসাবে তাও ঠিক করে রেখেছে তারই জানা গেল দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে। কিন্তু কাকে ইউক্রেনের নতুন সরকারের প্রধান করতে চাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন? কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট নামে একটি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, আট বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে আবার জেলেনস্কির পদে বসাতে চলেছেন পুতিন।

ইউক্রেনিস্কা প্রাভদা নামে এক অনলাইন পোর্টালের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাসনে থাকা ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে ইতিমধ্যেই কিয়েভের উদ্দেশে পাঠিয়েছে রাশিয়া। কিয়েভসহ জেলেনস্কি প্রশাসনের পতন হলেই তাকে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে বসাবে রাশিয়া! আর এর মাধ্যমে চলমান অভিযানের ইতি টানবে তারা।

কিয়েভ ইনডিপেনডেন্ট গত বুধবার এক টুইট বার্তায় জানায়, ইউক্রেনের নতুন সরকার বসাতে চায় রাশিয়া। সেই ব্যক্তি এখন বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে আছেন। ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে ইউক্রেনে চায় রাশিয়া। সেই টুইটে রিটুইট ও নানা মন্তব্য ভরে গেছে। কেউ বলছেন, এটাই হতে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ একে দিবাস্বপ্নও বলছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেনে ‘পুতুল সরকার’ বসানোর ব্লুপ্রিন্ট করে ফেলেছে রাশিয়া। মস্কোর ‘চোখের মণি’ সাবেক ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে ফিরিয়ে কিয়েভে বসাতে চায় ক্রেমলিন।

ইয়ানুকোভিচকে অনেক পছন্দ রাশিয়ার। আর এর কারণ খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে কয়েক বছর আগে। ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ২০০২ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ৭ ডিসেম্বর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ২০০৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ফের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। সেই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন লিওনিড কুচমা। এরপর ২০১০ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হন ক্রেমনিলের অন্যতম বন্ধু ইয়ানুকোভিচ। ২০১৪ সালে একাধিক আন্দোলন, বিক্ষোভের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে দেশ ছাড়তে হয়। সেই থেকে ইউক্রেনের বাইরেই আছেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে খোলা বাণিজ্যে রাজি না হওয়ায় এ ক্ষোভ তৈরি হয়। সেখানেই ক্রেমলিনের নিরাপত্তায় দিন কাটাতে থাকেন। ইউক্রেন থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় প্রেসিডেন্টের পদ থেকে। আপাতত ইউক্রেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন পুতিন। তার সবচেয়ে পছন্দসই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে পারেন ইয়ানুকোভিচই।

যদিও রাশিয়া বারবার বলছে, ইউক্রেন দখল তাদের লক্ষ্য নয়। তাদের লক্ষ্য, ন্যাটোর সদস্য হওয়া হতে চাওয়া ইউক্রেনকে থামানো। কারণ ন্যাটোর সেনা ইউক্রেনে এলে নিরাপত্তার হুমকিতে পড়বে রাশিয়া। ইউক্রেনের কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ এখন রাশিয়ার হাতে। এমন অবস্থায় সমর বিশেষজ্ঞদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, যুদ্ধের প্ল্যান-বি হিসেবে রুশ প্রেসিডেন্ট ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পথেই হাঁটছেন। আর এর মাধ্যমেই জেলেনস্কি সরকারকে উৎখাত করে নিজের বিশ্বস্ত পাত্র ইয়ানুকোভিচকে বসিয়ে এ যুদ্ধে ইতি টানতে চান পুতিন।

ইউরোপ এত বড় শরণার্থী সংকট আগে দেখেনি বলে মনে করছে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত