কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া এলাকায় শিশু সুরাইয়া খাতুনকে (৭) ‘ধর্ষণ করে’ হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় অভিযোগ এনে তিনজনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেছে নিহত শিশু সুরাইয়ার বাবা মো. রুবেল।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, কুষ্টিয়া শহরের মিললাইন ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজন ইসলামের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৫), মো. দুলু মিয়ার ছেলে ইনছান (৪৩) এবং গোলাম মোস্তফার ছেলে সুমন (৪০)।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচার দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিহতের বাড়ি শহরের মিল লাইন থেকে বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানা মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন তারা। এ সময় অংশ নেয়া স্থানীয়দের অভিযোগ শিশু সুরাইয়াকে ধর্ষণ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ঘটনাটিকে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র।
শনিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অচেতন ওই শিশুকে উদ্ধার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সুরাইয়া কুষ্টিয়া পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব মিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাছ ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনের কন্যা এবং স্থানীয় আলাউদ্দিন আহমেদ একাডেমির প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সুরাইয়ার মা ইমা খাতুনের অভিযোগ, পাষণ্ডরা আমার এতটুকু দুধের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে আবার আমারই ঘরের মধ্যে লাশ ফেলে গেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সুরাইয়ার বাবা মো. রুবেলের অভিযোগ, আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে ওরা হত্যা করেছে। আমি পুলিশকে সেটা বলেছি। অথচ থানায় শুধু হত্যা মামলা নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ নিজেই দরখাস্ত লিখে আমার সই নিল। দরখাস্তে কী লেখা ছিল তা আমাকে পড়ে শোনাননি পুলিশ। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসি চাই।
কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সাব্বিরুল আলম বলেন, শিশু সুরাইয়া হত্যা মামলাটি তদন্তাধীন। এ মুহূর্তে মামলার কোনো বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ধর্ষণ বা ঘটনা যা-ই ঘটুক পুলিশের তদন্তে সব বের হয়ে আসবে। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাক তাদের গ্রেপ্তার ইতিমধ্যে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নিহত শিশু সুরাইয়ার বাবার করা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
