গ্রেপ্তারের ৩ ঘণ্টা পর র‌্যাব হেফাজতে আসামির মৃত্যু

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২২, ০৯:২৪ পিএম

চট্টগ্রামে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৭) হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ৩ ঘণ্টা পর ‘অসুস্থ হয়ে’ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ব্যক্তির (৬০) মৃত্যু হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশে শেভরন ক্লিনিক্যাল প্রাইভেটের সামনে থেকে মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। তার বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ঘাটবেক এলাকায়।

র‍্যাবের দাবি, নজরুল হৃদ্‌রোগ ও বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘নজরুল ২০১২ সালে রাঙ্গুনিয়া থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছিল।’

তবে তিনি কোন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন সে বিষয়ে জানানো হয়নি। র‌্যাব তাকে তার স্ত্রীসহ শেভরনের সামনে গ্রেপ্তার করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুকে ব্যথার কথা জানালে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি সেখানে মারা যান।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, নজরুলের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, নজরুল ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন।

চমেক হাসপাতালে নজরুলের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (এসি) মিল্টন বিশ্বাস। 

তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি নজরুলের ছেলে ও ভাগনের উপস্থিতিতে লাশ পরীক্ষা করেছি। শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা বা আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আমাকে বলেছিল যে তার পুরোনো কিছু শারীরিক জটিলতা ছিল। তাদের উপস্থিতিতেই পরে লাশ মর্গে পাঠানো হয়।

নজরুলের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলেন ‘আমার স্বামী রাঙামাটিতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলার ছিল। তাকে আটক করার সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম। আমি একা, আমার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। তিনি হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।’

নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি তার নামপরিচয় জানতেও অসম্মত হন।

র‌্যাবের সিও বলেন, ‘পরিবারের মনোনীত চিকিৎসককে দিয়েই মর্গে নজরুলের ময়নাতদন্ত করার পর বুধবার দুপুরে মরদেহ তার স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

রাঙামাটি বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইসলাম ২০০৩ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির কমিটির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত