তেল-গ্যাসের বিকল্প উৎসের সন্ধানে ব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান বিশেষ অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রকে একের পর এক পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে রুশ তেলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের দেখাদেখি যুক্তরাজ্যও একই পথে হাঁটছে। রুশ তেল-গ্যাসের বিকল্প কী হতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তরে সবার আগেই আসে ভেনেজুয়েলা ও ইরানের নাম। মজার বিষয় এই দুটি দেশই যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত।
গত তিন বছরে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক অবস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা স্বীকৃতি দেওয়ার পর অপরিসীম চাপে পড়ে দেশটির মাদুরো সরকার। এই চাপ সামলাতে দেশটিকে সহায়তা করে রাশিয়া ও চীন। ভেনেজুয়েলার তেল বিকল্প রুট হয়ে কিনে নিয়ে দেশটিকে টিকিয়ে রাখছে মূলত এই দুই দেশ। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টোপ গিলেছে দেশটির সরকার। বিকল্প উৎস সন্ধানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য সম্প্রতি কারাকাসে যান। সেখানে গিয়ে তারা ভেনেজুয়েলার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার ও আরও কিছু প্রতিশ্রুতি দেন। এমন সংবাদ প্রকাশের পর একদল পর্যবেক্ষক জানিয়েছিলেন যে, ভেনেজুয়েলার আজকের পরিণতি যে দেশের জন্য সেই দেশের প্রস্তাবে সাড়া দেবে না কারাকাস। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। কারাবন্দি যুক্তরাষ্ট্রের দুই নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কয়েক দিন পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। গত শনিবার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কয়েক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। পরে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন হামলার ঘটনায় রাশিয়াকে একঘরে করতে ভেনেজুয়েলাকে পাশে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়ার তেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর তেলের চাহিদা মেটাতে অন্য দেশগুলোর শরণাপন্ন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেল রপ্তানি বাড়াতে অনিচ্ছুক বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলাকে বলেছেন, দেশটির তেল খাতে যেসব নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা প্রত্যাহার চাইলে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে ভেনেজুয়েলার।
