ট্রেনে কাটা ৩ ছাত্রী: জেলা ও রেলওয়ের তদন্ত কমিটি, স্কুল বন্ধ

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২২, ০৯:০৩ পিএম

কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া, মীম এবং রীমা নিহতের ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের একটি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি ফুটওভার ব্রিজের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অন্যদিকে নিহত তিন শিক্ষার্থীর স্মরণে বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। করা হয়েছে মিলাদ মাহফিল। এখনো নিহতদের পরিবার, এলাকাবাসী এবং বিদ্যাপীঠের সহপাঠী শিক্ষকদের মধ্যে চলছে শোক। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমা আশরাফীর নেতৃত্বে কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কুমিল্লা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহান সরকার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল মান্নান।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে, রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের কোনো খোঁজ-খবর না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনছার আলীকে প্রধান করে গঠিত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটিতে অন্য সদস্যরা হলেন- চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ মো. আবদুল হানিফ, সংকেত ও টেলিযোগাযোগ কর্মকর্তা জাহেদ আরেফীন পাটোয়ারী ও চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শিবু নাথ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক মুহম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী জানান, চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সর্বত্রই শোকের ছায়া। তিন শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না এলাকাবাসী।

বিজয়পুর এলাকার বাসিন্দা এলাহী বক্স বলেন, এত বড় একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেল, কিন্তু রেলওয়ের লোকজন নিহতদের পরিবারের কোনো খোঁজ খবর নিল না, তাদের এমন আচরণে এলাকার লোকজন হতবাক। দুর্ঘটনারোধে দ্রুত ওই এলাকায় একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি করছি।

বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান বলেন, আমার সন্তানতুল্য তিনজন কোমলমতি শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাকে চরমভাবে ব্যথিত করেছে, প্রতিনিয়তই তাদের স্কুলে আসা যাওয়া দৃশ্য আমার চোখে ভাসছে, নিহতদের জন্য আমার মতো গোটা বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদেরও চোখের অশ্রু ঝরছে। তাদের স্মরণে আজ স্কুল বন্ধ রেখেছি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া (১১), মীম (১১) এবং রিমা (১১)। রেল সড়ক পাড় হওয়ার সময় আকস্মিক দুটি ট্রেনের মাঝামাঝি পড়ে যায় তারা। এ সময় দুটি ট্রেনের মাঝখানে পড়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান তিন সহপাঠী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত