যুক্তরাষ্ট্রে ফেব্রুয়ারিতে ভোগ্যপণ্যের মূল্য আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সামনের মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে।
গত বৃহস্পতিবার দেশটির শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) জানুয়ারিতে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ার পর গত মাসে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ মাসে সিপিআই ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৯৮২ সালের জানুয়ারির পর থেকে বছরের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। মুদ্রাস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ দশমিক শূন্য শতাংশ লক্ষ্যকে ছাড়িয়ে গেছে। মুদ্রাস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী বুধবার থেকে সুদের হার বাড়ানো শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর পর তেলের মূল্য কতদূর বাড়বে গত মাসের সিপিআইয়ের তথ্য তা পুরোপুরি ধরতে পারেনি। তেলের মূল্য ৩০ শতাংশ বেড়ে বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২০০৮ সালে ওঠা সর্বোচ্চ মূল্য ১৩৯ ডলারের কাছাকাছি চলে যায়। গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেকভুক্ত দেশগুলোকে তেলের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানানোর পর মূল্য কিছুটা কমতে শুরু করে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশেনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৪৬৯ ডলার ছিল আর এখন তা রেকর্ড ৪ দশমিক ৩১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। নিউ ইয়র্কের জেপি মর্গান ফান্ডের প্রধান গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ডেভিড কেলির বক্তব্য অনুযায়ী চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম যদি গড়ে ৪ দশমিক ২০ ডলারের কাছাকাছি থাকে তবে পরিবারপ্রতি গৃহস্থালি খরচ আরও ১ হাজার ডলার বাড়বে।
