ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার এক সময়ের খরস্রোতা কালন্দি খালটি অবাধ দখল আর ময়লা-আবর্জনায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা খালের জমি দখল করে দোকানপাট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। খালটির কারণে একসময় শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটি একটি খাল।
ব্রিটিশ আমলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি ঢলের পানি নিষ্কাশন ও সেচ কাজের সুবিধার জন্য খালটি খনন করা হয় বলে জনশ্রুতি আছে। এটি আখাউড়া চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশ করেছে। আখাউড়া-আগরতলা সড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পৌর শহরের সড়ক বাজারের ওপর দিয়ে এ খাল তিতাস নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুম বাদে বছরের বাকি সময়ে এ খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। আখাউড়ার কয়েকটি বাজারের মালামাল এ পথে নৌকা দিয়ে নিয়ে আসা হতো। এছাড়া এ খালের পানি এখানকার কৃষিজমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু আজ এসব ইতিহাস। দখলদারদের করাল গ্রাসে খালটি এখন মৃতপ্রায়। শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির সময় বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার তৈরি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রভাবশালীরা রাতের আঁধারে প্রথমে বাঁশ, টিনের চাল দিয়ে মাচা তৈরি করে জায়গাটি দখলে নেন। কিছুদিন পর টিনের বেড়ার আড়ালে পাকা দালান গড়ে তোলেন। রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসনও এসব বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের ওপর আরসিসি পিলার দিয়ে দোকানপাট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করেছে ভূমিদস্যুরা। আবার কেউ কেউ খালের পানি তিতাস নদীতে পতিত হওয়ার মুখে জাল ও বাঁশ দিয়ে স্বাভাবিক পানির গতিরোধ করে মাছ চাষ করছে। বাসাবাড়ির বর্জ্য আর দোকানপাটের ময়লা আবর্জনা ফেলে কোথাও কোথাও ময়লার স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। খালের ওপর নির্মিত ব্রিজের দুই পাশও দখল হয়ে গেছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি ও বাসাবাড়ির গৃহস্থালি-কাজে ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, খালটি রাধানগর আখাউড়া মৌজার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তিতাস নদীতে। রাধানগর মৌজার বি.এস ম্যাপে খালের প্রস্থ পশ্চিম দিকে ৩৭ ফুট ও পূর্ব দিকে ৩১ ফুট উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে খালটির প্রস্থ ১০ থেকে ১৫ ফুট খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর। কোনো কোনো স্থানে দখল আর আবর্জনার কারণে খালের অস্তিত্বই পাওয়া যায় না। অভিযোগ আছে, গত বিএস জরিপের সময় খাল পাড়ের কিছু জায়গা বিভিন্ন ব্যক্তি নামেও রেকর্ড করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খালটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। অচিরেই দখলমুক্ত করতে অভিযান চালাব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আক্তার বলেন, ‘কালন্দি খালটিকে কেন্দ্র করে আখাউড়া পৌরবাসীর জীবনযাত্রা। নতুন জেলা প্রশাসক আমাকে এবং এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, খুব শিগগিরই খালটি উদ্ধার ও পরিছন্নতার কাজ করব।’
