রমজানের আগমনী বার্তা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২২, ১২:৪৩ এএম

হিজরি বর্ষের অষ্টম মাসের নাম শাবান। পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে শাবান। এ মাসে নফল রোজা ও অন্যান্য নফল ইবাদতের অপূর্ব মেলবন্ধনের সূচনা ঘটে। নফল রোজার পরিপ্রেক্ষিতে শাবান মাস আরেক রমজানের রূপ ধারণ করে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের পর এ মাসে অনেক বেশি আমল ও ইবাদত-বন্দেগি করতেন। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) শাবান মাসের চেয়ে অধিক রোজা অন্য মাসে পালন করতেন না। তিনি প্রায় পুরো মাস রোজা পালন করতেন এবং বলতেন, তোমরা সাধ্য অনুযায়ী আমল করে নাও কেননা, আল্লাহ (সওয়াব দিতে) বিরক্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা (ইবাদত করতে) বিরক্ত হও।’ সহিহ্ বোখারি : ১৯৭০

এই মাসেই মহান আল্লাহর কাছে বান্দার আমলনামা পেশ করা হয়। হজরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) একবার নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনাকে শাবান ছাড়া অন্য কোনো মাসে এত বেশি ইবাদত করতে দেখি না, এর কারণ কী? নবীজি (সা.) উত্তরে বললে, এটা রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস, যে মাসে আল্লাহর কাছে বান্দার আমলগুলো পেশ করা হয়। অথচ এ মাসে মানুষ উদাসীন হয়ে যায়। আমি চাই, আমি রোজা পালনকারী অবস্থায় আমার আমলগুলো মহান আল্লাহর কাছে পেশ হোক।’ সুনানে নাসায়ি : ২৩৫৭

রমজানের সম্মানে শাবান : হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, রমজানের পর কোন রোজা সর্বোত্তম? তখন তিনি বললেন, রমজানের সম্মানার্থে শাবান মাসে রোজা পালন করা। আরও জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন সদকা সর্বোত্তম? তিনি বললেন, রমজানে সদকা করা।’ সুনানে তিরমিজি : ৬৬৩

কাজা রোজা পালন : হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমার ওপর রমজানের কাজা রোজা থাকত। সেগুলো শাবান ছাড়া অন্য মাসে আদায় করতে পারতাম না। সহিহ্ মুসলিম : ১১৪৬

মহিমান্বিত এক রাত : লাইলাতুন নিসফি মিনাশ শাবান বা শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত অত্যন্ত মহিমান্বিত। এ রাতে মহান আল্লাহ বান্দার ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা শাবান মাসের মধ্য রজনীতে মুশরিক ও হিংসুটে ছাড়া সবার পাপ ক্ষমা করে দেন। সুনানে নাসায়ি : ১৩৯০

দোয়া ও ইবাদত : ইসলামের বিধানমতে, নির্দিষ্ট পাঁচ দিন ছাড়া বছরের সব দিন রোজা পালন করা যায়, নফল ইবাদত-বন্দেগি করা যায়। তবে মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দের মাস হচ্ছে রমজান। এ মাসে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। এই মাসের কল্যাণে শাবান মাসকেও আল্লাহ সম্মানিত করেছেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও শাবান মাসে অনেক ইবাদত করতেন। রাসুলের ইবাদত দেখে সাহাবি ও উম্মাহাতুল মুমিনিনরা মনে করতেন, যেন রমজান চলছে। এ যেন আরেকটি রমজান। এ ছাড়া রজব ও শাবান মাস চলাকালীন নবীজি (সা.) বারবার এই দোয়া পড়তেন এবং সবাইকে পড়তে উৎসাহ দিতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাজান।’ অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং রমজানে পৌঁছে দিন।

সাহাবায়ে কেরাম নিয়মিত এ দোয়ার আমল করতেন। অতএব শাবান মাসে এ দোয়া পাঠসহ নফল ইবাদত-বন্দেগির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আসন্ন রমজানের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা কর্তব্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত