গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বেচ্ছায় দান করা একজনের রক্ত বিক্রি করে তোপের মুখে পড়েছে নিউ পদ্মা ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে করা হয়েছে জরিমানা। হাসপাতালটিকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উত্তেজিত জনতার সঙ্গে আন্দোলনে নেমেছে স্বেচ্ছায় রক্তদানের অন্তত ৩০টি সংগঠন। গত শুক্রবার ঘটে রক্ত বিক্রি ও আন্দোলনের এসব ঘটনা।
জানা গেছে, সন্তানসম্ভবা এক নারী সিজার অপারেশনের জন্য ওই হাসপাতালে গেলে ‘বি নেগেটিভ’ রক্তের প্রয়োজন দেখা দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত রক্ত জোগাড়ের তাগিদ দেন স্বজনদের। পরে রক্তদানের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে এক তরুণের রক্ত সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু অপারেশন শেষে উপজেলার শিল্পাঞ্চল খ্যাত মাওনা চৌরাস্তার নিউ পদ্মা ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ ‘ছয় হাজার টাকায় রক্ত কেনা হয়েছে’Ñ বলে ধরিয়ে দেয় ভাউচার।
স্বেচ্ছায় দেওয়া রক্ত মোটা অঙ্কের টাকায় রোগীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্বেচ্ছায় রক্ত দেয় এমন ৩০টি সংগঠনের সদস্যরা। এক সময় উত্তেজিত জনতাও তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রতিবাদে নামে। পরে সে প্রতিবাদ রূপ নেয় তীব্র আন্দোলনে। দায়ীদের শাস্তি এবং প্রাইভেট হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি তোলা হয় আন্দোলনে। একসময় সড়কে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। ওইসময় রক্ত বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তবে পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অপরাধের সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় হাসপাতালটিকে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, হাসপাতালের এমন কসাইসুলভ আচরণ সবাইকে বিক্ষুব্ধ করেছে। দ্রুত এর বিচার হওয়া দরকার। নইলে এ চর্চা অন্য কোনো হাসপাতালও শুরু করতে পারে। এ সুযোগে গড়ে উঠবে রক্ত বিক্রির একটি সিন্ডিকেট।
স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠনের নেতা (সিএইচবি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা) এম পারভেজ প্রধান বলেন, দান করা রক্ত বিক্রি করা একটি গর্হিত অপরাধ। এর বিচার দ্রুত হওয়া দরকার। সুষ্ঠু বিচার না হলে আরও তীব্র আন্দোলনে যাবেন সদস্যরা।
স্বেচ্ছায় রক্তদাতা বিপ্লব চন্দ্র সরকার বলেন, নিউ পদ্মা হাসপাতালের মালিক পক্ষের এক ব্যক্তি ফোনে জানান দরিদ্র রোগীর জন্য এক ব্যাগ বি-নেগেটিভ রক্ত দ্রুত প্রয়োজন। ওইদিন বিকালেই হাসপাতালে গিয়ে বিনামূল্যে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে আসি। পরে জানতে পারি সেই রক্তই ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এমন অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
নিউ পদ্মা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, আমরা ভুল স্বীকার করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রক্ত বিক্রির টাকা ফেরতসহ ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে বেশ কিছু অব্যবস্থাপনা পেয়ে বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
