আইডিটিপি দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ৭ কেন্দ্রীয় ব্যাংকার

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২২, ১১:১০ পিএম

ব্যাংকের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে ব্যাংকের হিসাবের মধ্যে টাকা লেনদেনের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক পদ্ধতি ইন্টার-অপারেবল ডিজিটাল ট্র্যানসেকশন প্ল্যাটফর্ম (আইডিটিপি) চালুর আগে এ ধরনের পদ্ধতি দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তা। ডাক, টেলিকমিউনিকেশন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আইডিটিপি পদ্ধতি দেখতে আজ ২০ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ সে দেশে ভ্রমণ করবেন তারা।

আইডিটিপি দেখতে বিদেশ যাওয়ার অনুমোদন পাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংককর্মীদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাহী পরিচালক খুরশিদ আলম, পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মেজবাউল হক, উপমহাব্যবস্থাপক মশিউর রহমান, সিনিয়র সিস্টেমস অ্যানালিস্ট মশিউজ্জামান খান, যুগ্ম পরিচালক মো. মাহাবুব, সিস্টেমস অ্যানালিস্ট শরিফুল ইসলাম ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার কাজী রাশেদুল ইসলাম। তবে গতকাল শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মীদের ভিসা না হওয়ায় বিদেশ ভ্রমণের দিনক্ষণ বদলাতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মেজবাউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘এখনো ভিসা হয়নি। পূর্বনির্ধারিত তারিখে ট্যুর হচ্ছে না।’

পরীক্ষামূলকভাবে লেনদেন সম্পন্ন করা ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে আইডিটিপি চালুর প্রথম প্রচেষ্টাটি আটকে যায় ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর। এরপর প্রায় দেড় বছরেও আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ এই উদ্যোগটি আলোর মুখ দেখেনি।

আইডিটিপি চালু হলে ব্যাংক থেকে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে বা মোবাইল ব্যাংকিং থেকে যেকোনো ব্যাংকের হিসাবে টাকা পাঠানোর মতো আন্তঃলেনদেন সহজ হবে। এক ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে অন্য ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবেও লেনদেন করা যাবে।

এই সেবার মাধ্যমে আন্তঃলেনদেনের খরচ ও অন্যান্য বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সার্কুলারও জারি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে বলা হয়েছিল, ব্যাংক থেকে মোবাইল ব্যাংকে বা মোবাইল ব্যাংক থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠাতে খরচ হবে হাজারে সাড়ে চার টাকা। এক মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে অন্য অপারেটরের হিসাবে টাকা পাঠাতে খরচ হবে হাজারে আট টাকা। ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যেসব ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান আন্তঃলেনদেন প্রক্রিয়া পরীক্ষামূলকভাবে শেষ করেছে তারাই এই সেবা চালু করতে পারবে বলে জানানো হয়েছিল। অন্যান্য ব্যাংক ও এমএফএসগুলোকে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তবে এরপর আরও এক বছর হতে চলেছে, কিন্তু সেবাটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে করোনা মহামারীর প্রকোপ কমে আসায় দুই বছর পর আবারও দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কাজে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণে যাওয়া শুরু করেছেন।

জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসেই বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৫ কর্মকর্তার। এর মধ্যে দাপ্তরিক কাজে ভ্রমণে যাচ্ছেন ১৩ কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণে যাচ্ছেন ১২ কর্মকর্তা। মার্চের ২৮ তারিখ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের নিউ দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিতে সেখানে যাবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা।

ব্যক্তিগত ভ্রমণে যে ১২ কর্মকর্তা মার্চ মাসে বিদেশ ভ্রমণে যাচ্ছেন তাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। এছাড়া কেউ কেউ যাচ্ছেন বিদেশে অবস্থানরত স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। কেউবা যাচ্ছেন ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখার জন্য।

এছাড়া আগামী এপ্রিল মাসেও বড় দুটি বিদেশ ভ্রমণ রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, প্রধান অর্থনীতিবিদ মো. হাবিবুর রহমান এবং আরও ৯ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এপ্রিলের ১৭ তারিখ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওই মাসে দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ১৯ কর্মকর্তা বিদেশে যাচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত