কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে সংরক্ষিত বনভূমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির ওপর দিয়ে সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছে প্রভাবশালীরা। বঙ্গোপসাগরের মগনামা-কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে প্রকাশ্যে পাইপলাইন বসিয়ে ১০-১৫ দিন ধরে বালু উত্তোলন চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ ও পাউবো।
তবে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের আওতাধীন মগনামা বনবিট কর্মকর্তা মো. মোবারকের দাবি, পাইপ বসানোর সময় বাধা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু বালু উত্তোলনে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় বন বিভাগের নির্দেশ মানছে না। তিনি এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজারের সাগর উপকূলীয় দুই উপজেলা পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যবর্তী স্থান বঙ্গোপসাগরের মগনামা-কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ১০-১৫ দিন ধরে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করছেন আসিফ নামের এক ব্যক্তি।
আসিফ জানান, তিনি ড্রেজার মেশিন ভাড়া দিয়েছেন। বালু উত্তোলন করছেন ঠিকাদার জামিল। তবে, খোঁজখবর নিয়ে সাগর থেকে বালু উত্তোলনে আসিফের দেওয়া বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, উজানটিয়ার যুবক আসিফ মগনামার সাবেক এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে জায়গা ভরাটসহ বিভিন্ন জায়গায় বেচা-বিক্রি করছেন।
মগনামা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম মমতাজুল ইসলাম জানান, মগনামা-কুতুবদিয়া চ্যানেলের মগনামা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখায় নষ্ট হচ্ছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক খনিজসম্পদ, সামুদ্রিক প্রাকৃতিক জীবসম্পদ, মৎস্য, চিংড়ি, শামুক, ঝিনুক, ডলফিন, কাঁকড়া, সি-উইড, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজনন-আবাসস্থল। জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্যের ইকো-সিস্টেমকে ক্ষতিসাধন করে রাষ্ট্রের সামুদ্রিক জলজ সম্পদের ক্ষতিসাধন করা হচ্ছে। এ ছাড়া সমুদ্রতল, জলরাশি, জলস্রোত, বায়ু, সামুদ্রিক প্রবাল প্রাচীরও দূষিত হচ্ছে। ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতা মগনামা-কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মগনামার লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা মকছুদ জানান, মগনামার কতিপয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট করে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উত্তোলন করছেন বালু।
জাতীয় পরিবেশ নীতিমালা অনুযায়ী সমুদ্রে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও মগনামা-কুতুবদিয়ায় তা মানা হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার কাজল কান্তি শীল জানান, মগনামা-কুতুবদিয়া চ্যানেলের মগনামা লঞ্চঘাটের পাশে সাগর থেকে বালু উত্তোলনের জন্য প্রশাসন কাউকে অনুমতি দেয়নি। খোঁজখবর নিয়ে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
