শ্রদ্ধা ভালোবাসায় শায়িত হলেন সাহাবুদ্দীন আহমদ

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ০২:৫৬ এএম

শ্রদ্ধা ভালোবাসায় রাজধানীর বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। গতকাল রবিবার দুপুরে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ১০টার দিকে মরদেহ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আনা হলে সেখানে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী কফিনে শ্রদ্ধা জানান। জানাজায় আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, সাবেক মন্ত্রী ও নাট্যাভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ আইনজীবীরা অংশ নেন। সাবেক এই প্রধান বিচারপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বিচার কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

সাহাবুদ্দীন আহমদের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে বেঁচে থাকবেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন। আমাদের স্বপ্নযুগে যে কজন বিচারপতিকে আমরা পেয়েছি, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তাদের একজন।’ প্রয়াত সাবেক কয়েকজন প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতির নাম উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আজকে আমরা বিদায় জানাচ্ছি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে। বিচারাঙ্গনের সবার জন্য শোকের  দিন আজকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই জাতি, যারা বিচারাঙ্গনে চলাফেরা করেন, তারা জানেন বিচারাঙ্গনে সাহাবুদ্দীন আহমদের কী অবদান। তার বিভিন্ন রায়ের জন্য তিনি  আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। কখন স্যুট মেইনটেনেবল (মোকদ্দমার গ্রহণযোগ্যতা) হবে আর কখন স্যুট মেইনটেনেবল হবে না, ৩৯ ডিএলআর পেইজ ৪৬-এর রায় এই জাতি মনে রাখবে। আজ থেকে ৫০/১০০ বছর পরেও বিচারপ্রার্থীরা এই রায়ের সুফল পাবেন।’ জানাজার আগে সাহাবুদ্দীনের কফিনে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সাহাবুদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল আহমদ এ সময় প্রয়াত বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে সমান ব্যবহার করতেন তিনি। তাতে মনে হয়েছে উনি মনেপ্রাণে একজন বিচারক ছিলেন।’ জানাজা শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, সাহাবুদ্দীন আহমদকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

দেশের রাজনীতি ও বিচারাঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা, নিরপেক্ষতা আর আস্থার অনন্য প্রতীক বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ গত শনিবার সকালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জেনারেল এইচ এম এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসানের পর দেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফেরার প্রক্রিয়ায় তখনকার প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে আবারও প্রধান বিচারপতি পদে ফিরে যান তিনি। এর প্রেক্ষিতে  সংবিধানের একাদশ সংশোধনী আনা হয়। প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যাওয়ার পর ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি অবসরে যান তিনি। ১৯৯৬ সালের জুনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করার পর দলের প্রার্থী হিসেবে সাহাবুদ্দীন আহমদ সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নিরলসভাবে চেষ্টা করেন। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন।

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়ার পেমই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২১ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এরপর ১৯৮০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তিনি। পরে ১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত