চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা। যেখানে আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ৪টি ইটভাটা। বিরোধপূর্ণ জায়গা ও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ফলে ১টি ইটভাটা বন্ধ থাকলেও বাকি ৩টির ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে ইলশা এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘর, স্কুল মাদ্রাসা।
তবে ইটভাটার মালিকেরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না।
বিগত দিনে ইটভাটাগুলো প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর গুঁড়িয়ে দিলেও আবারও নানাভাবে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।
এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট ও কাঠ পোড়ানোর অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসন বরাবর আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাঁশখালীতে ১১টি ইটভাটা রয়েছে। তার মধ্যে চাম্বলের এন.টি ব্রিক ও ইজ্জতনগরের এমবিএম ব্রিক -২ এর অনুমোদন থাকলে বাকি রত্নপুরের মেসার্স চৌধুরী ব্রিক ম্যানু.-৪ ব্রীক, ইলশার মেসার্স এমবিএম ব্রিক ম্যানু., সাদাত ব্রিক, মেসার্স খাজা আজমীর ব্রিক মেসার্স চৌধুরী ব্রিক ওয়ার্কশপ, এলাহী ব্রিক ম্যানু. লিমিটেড, মেসার্স ওয়ান স্টার ব্রিক, জামাল ব্রিক ও মেসার্স ফাইভ এমটিএম অবৈধভাবে ইট উৎপাদন করছে।
এদের মধ্যে কয়েকটি ইটভাটা উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। বাঁশখালীর চাম্বলে একটি, শেখেরখীলে একটি, সরলে একটি, বাহারছড়ায় পাঁচটি, লটমনিতে চারটি ও পুকুরিয়ায় দুটি ইটভাটা আছে।
এর মধ্যে বাহারছড়ার দুটি ও পুকুরিয়ার একটি ইটভাটা আপাতত উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। বাকিগুলোর বেশির ভাগই বনের কাঠ পুড়িয়ে, জলকদর খালের মাটি দিয়ে ইট উৎপাদন করছে।
প্রতিটি ইটভাটা গড়ে উঠছে জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায়।
ইটভাটার ধূলিকণা পড়ে গাছগাছালি ও বাড়িঘরের করুণ অবস্থা।
স্থানীয় জনগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও জরিমানা দিয়ে পুনরায় ইট উৎপাদন করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহারছড়ায় গড়ে ওঠা ইটভাটা নিয়ে একের এক সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫/৬ জন মারা গেলেও বহাল তবিয়তে রয়েছে ইটভাটাগুলো।
বাঁশখালীর সরলের মিনজীরিতলায় লবণ মাঠের পাশে গড়ে উঠেছে ইটভাটা তার উপর গন্ডামারার নবনির্মিত এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনটি এই ইটভাটার চিমনির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
লবণ মাঠ, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাছে হলেও মেসার্স চৌধুরী ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচার এর পরিচালক মহিউদ্দিন চৌধুরী জাহাঙ্গীরের বলেন, এই ইটভাটাটির অনুমোদন দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ইটভাটা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন অনুমোদন দিয়েছে কেন?
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুফিদুল আলম (উপ-সচিব) সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে কার্যক্রম চলছে। হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে পরিবেশ অধিদপ্তর সবগুলো ইটভাটা উচ্ছেদ করবে। ইতিমধ্যে লোহাগাড়া-চকরিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে বাঁশখালী উপজেলায় বিদ্যমান অবৈধ ইটভাটাগুলোও উচ্ছেদ করা হবে বলে তিনি জানান।
