কারাগারে নয় ফুল-পতাকা হাতে শিশুদের বাবা-মার জিম্মায় দিল আদালত

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ০৩:৪০ পিএম

কারাগারে না পাঠিয়ে ফুল আর দেশের পতাকা হাতে দিয়ে ৭০ শিশু অভিযুক্তকে সংশোধনের জন্য বাবা-মায়ের জিম্মায় দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন লঘু অপরাধের ৫০ মামলায় ৭০ জন শিশুকে রেহাই দিয়ে কিছু ভালো কাজ করার শর্ত দেন।

শর্তগুলো হল- প্রতিদিন ২টি ভালো কাজ করা এবং তা তাদের আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডায়েরিতে লিখে রাখা ও বছর শেষে ডায়েরি আদালতে জমা দেওয়া, ২০টি গাছ লাগানো, বাবা-মাসহ গুরুজনদের আদেশ নির্দেশ মেনে চলা এবং বাবা-মায়ের সেবা যত্ন করা ও কাজে কর্মে তাদের সাহায্য করা, নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা এবং ধর্মকর্ম পালন করা, অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা, মাদক থেকে দূরে থাকা, ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে না জড়ানো শর্তে এসব মামলা নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়।

এসব শর্ত পালন হচ্ছে কিনা তা আগামী এক বছর একজন প্রবেশন কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর আদালতকে অবহিত করবেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

প্রবেশন কর্মকর্তা শফিউর রহমান বলেন, ‘আদালত এসব শিশুকে ৯টি প্রবেশন শর্তে তাদের আমার তত্ত্বাবধানে পিতামাতার জিম্মায় দিয়েছেন। তারা প্রতিদিন দুটি ভালো কাজ করবে আর সেগুলো একটা ডায়েরিতে লিখে রাখবে এবং এসব ডায়েরি আদালতে জমা দিতে হবে।  এই ৭০ জন শিশু এসব প্রবেশন শর্ত পালন করছে কিনা সেগুলোই আমি দেখভাল করবো।’

শিশু আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হাসান মাহবুব সাদী জানান, আদালতের এমন উদ্যোগ পরিবারের সান্নিধ্যে এসব কোমলমতি শিশুরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠবে এবং সুন্দর জীবন গঠনের সুযোগ পাবে।’

এর আগেও তিন দফায় ১৩৩ জন শিশুকে একইভাবে প্রবেশন দিয়ে মামলা থেকে নিষ্কৃতির মাধ্যমে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনে সুযোগ করে দেন এই বিচারক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত