বহু বছর ধরে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপের প্রতিরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা কম নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ নিয়ে একাধিকবার আওয়াজ তুলেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া ও প্রশাসনের চাপে ন্যাটোকে নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ট্রাম্প। এবার ইউক্রেনে রাশিয়া বিশেষ অভিযান চালানোর পর কিয়েভসহ ইউরোপের অনেক দেশই ভেবেছিল, যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা করেনি। উল্টো ইউরোপকে ঠেলে দিয়েছে সামনের দিকে। এ নিয়ে ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
সেই অসন্তোষ থেকেই এবার ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিজেরাই নিতে শুরু করেছে। জার্মানির বর্তমান সরকারের চ্যান্সেলর ওলাফ শলতজ গত রবিবার জানিয়েছেন, তার সরকার ইসরায়েলের মিসাইলবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’ এর আগে জার্মানির নেতারাও চ্যান্সেলরকে আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে। শুধু জার্মানি নয়, ইউরোপের আরেক দেশ এস্তোনিয়া ইতিমধ্যেই ৫২৩ মিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে। এই প্যাকেজের অধীনে মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা হবে। এক্ষেত্রে তারা নরওয়ের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপনযোগ্য মিসাইল ব্যবস্থায় ভরসা করতে চাচ্ছেন। এস্তোনিয়ার প্রতিবেশী লিথুনিয়াও ইতিমধ্যে কংসবার্গ ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি করেছে।
বুলগেরিয়ার সমরাস্ত্র ও গুলি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্সেনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিস্তো বৌচেভ রয়টার্সকে সম্প্রতি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই (ইউরোপে) শান্তি বিরাজ করছিল। তারা (নেতারা) ভেবেছিল এই শান্তির মেয়াদ হবে সীমাহীন।’ ইউরোপীয় দেশগুলোর হঠাৎ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নজর দেওয়াকে নাটকীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাদের মতে, ইউরোপের এই অবস্থানের কারণে বিশ্বে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।
ইউরোপের যে দেশগুলোর কাছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই আছে, সেগুলোর মধ্যে সেরা রাশিয়া ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইউরোপের শক্তিশালী দেশ তুরস্ককে গত বছর রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনতে দেখা যায়। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কের কাছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ চেয়েছিল। কিন্তু তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
