সোমবার ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন, সোমবারই তুরস্কে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। কিন্তু কূটনৈতিক কারণে সোমবার বৈঠক হয়নি। আজ মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে দুই দেশ বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাশিয়া এবং ইউক্রেন দুই দেশের প্রতিনিধির সঙ্গেই সোমবার তার টেলিফোনে কথা হয়েছে। দুই দেশই বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এর বাইরে আর কী কথা হয়েছে, তা বলতে চাননি এরদোয়ান।
বৈঠকের বিষয়বস্তু
বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়া। তবে ইউক্রেনের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আলোচনার ন্যূনতম বিষয়বস্তু হবে মানবাধিকার। আর সর্বোচ্চ বিষয় হবে যুদ্ধবিরতি।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এ কথা বলে ইউক্রেন একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে। তারা দ্রুত কোনো আপস মীমাংসায় যাওয়ার কথা ভাবছে না। যুদ্ধবিরতিই এখন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এরদোয়ানও জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
জেলেনস্কির বক্তব্য
প্রতিদিন নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে দিনের খবর দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সর্বশেষ বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, কিয়েভে এখনো তীব্র লড়াই চলছে।
জেলেনস্কির দাবি, ইরপিনের মতো বেশ কয়েকটি জায়গায় ইউক্রেনের সেনারা জয় পেয়েছে। সেখান থেকে রাশিয়ার সেনারা পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু কিয়েভের উত্তরাংশের শহরতলী এখনো রাশিয়ার সেনারা দখল করে রেখেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
জেলেনস্কির দাবি, গ্যাস এবং তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে রাশিয়া আরো বেশি বিপাকে পড়বে। তিনি অপেক্ষা করছেন, কখন পশ্চিমা দেশগুলো এই সিদ্ধান্ত নেয়।
অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। ইউক্রেনের বংশোদ্ভূত রাশিয়ার নাগরিক সেরেগেই ম্যাগনিটস্কির ফাইল মেনে তারা এই নিষেধাজ্ঞা জারি করবে।
ম্যাগনিটস্কি পেশায় আইনজীবী এবং কর বিশেষজ্ঞ ছিলেন। রাশিয়ার প্রচুর আর্থিক দুর্নীতি তিনি সামনে এনেছিলেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জেলে পাঠানো হয়। জেলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও কোনোরকম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ।
সেই ফাইল অনুসরণ করে একাধিক রাশিয়ার নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রাশিয়া এখনো এ বিষয়ে কোনো মতামত প্রকাশ করেনি।
