ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ অভিযান শুরুর পর থেকেই তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে অঞ্চলটির নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকরা। চীন যেকোনো মুহূর্তে রাশিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাইওয়ানে হামলা করতে পারে এমন আশঙ্কায় দিন কাটছে তাইপে প্রশাসকদের। ইউক্রেন ও তাইওয়ান উভয় দেশের সরকার ব্যবস্থা ধরতে গেলে একেবারে নতুন। তবে ইউক্রেনের সঙ্গে তাইওয়ানের কিছু জায়গায় পার্থক্য রয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে লড়তে হচ্ছে পশ্চিমা সহায়তার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু তাইওয়ান কৌশলগত জায়গা দিয়ে এমন একটি উপাদান তৈরি করে, যা তাইওয়ানে চীনা হামলা রুখতে পারে। সেই উপাদানটি হচ্ছে ‘সেমিকন্ডাক্টর’।
বিশ্বে ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টরের সিংহভাগ একাই তৈরি করে তাইওয়ান। তাইপে আক্রান্ত হলে বিশ্বে অনেক শিল্প রাতারাতি বসে যাবে। এই বসে যাওয়া শিল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র। আজকের চীনের প্রযুক্তিখাতে যে প্রভূত উন্নতি তার পেছনেও আছে তাইওয়ান। তাইপে আক্রান্ত হলে চীনের ব্যাংকিং খাতেও ব্যাপক ধাক্কা লাগবে। কারণ ব্যাংকিং লেনদেনে যে সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহার হয়, তাও আসে তাইওয়ান থেকেই। এয়ার ইউনিভার্সিটির গবেষক জারেড ম্যাককিন্নি আলজাজিরাকে বলেন, ‘তাইওয়ানকে অবশ্যই জাতীয় ও পেইচিংয়ের স্বার্থকে মাথায় রাখতে হবে। চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে পেইচিংকে তাইওয়ান জয় নতুবা নিজেদের অর্থনৈতিক পতন মেনে নিতে হবে। এই এক প্রশ্নে তাইওয়ানে অভিযান চালানো থেকে পিছু হটবে পেইচিং।’
বলা হচ্ছে, বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর চাহিদার ৯২ শতাংশই সরবরাহ করে তাইওয়ান। অ্যাপলের আইফোন থেকে শুরু করে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর প্রয়োজন হয়। এক বছর যদি তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যাহত হয় তাহলে বিশ্বের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মোটাদাগে ৬০০ বিলিয়ন ডলার হারাবে। আর তাইওয়ানের এই শিল্পকে অন্য স্থানে প্রতিস্থাপিত করতে গেলেও ৩৫০ বিলিয়ন ডলার ও অন্তত তিন বছর সময় লেগে যাবে। এজন্যই তাইওয়ান তাদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে বলছে ‘সিলিকন ঢাল’।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তাইপের হাতেই রয়েছে চীনের ৬জি স্বপ্নপূরণের সম্ভাবনা। চলতি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে চীনকে প্রযুক্তির হাত ধরেই এগোতে হবে। সেক্ষেত্রে দেশটি ৫জি দিয়ে যেমন পশ্চিমা দুনিয়াকে ধাক্কা দিয়েছে, তেমনি ৬জি হতে পারে বিশ্ব মোড়ল হওয়ার পথে চীনের সেরা অস্ত্র। এখন দেখার বিষয়, চীন কতটা কৌশলী আচরণ করে তাইওয়ান প্রশ্নে।
