সওজের জমিতে টেক্সটাইল মিলের পাকা নালা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২২, ১০:৫৭ পিএম

মির্জাপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমিতে একটি কারখানার পাকা নালা (ড্রেন) নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই নালা নির্মাণে একদিকে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি জায়গা, অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে ৮০-১০টি বসতবাড়ি।

উপজেলার কদিমধল্যা নামক এলাকায় সাদিয়া টেক্সটাইল মিল কর্তৃপক্ষ এই নালা নির্মাণ করছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

টেক্সটাইল মিল কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের জানিয়েছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে নালা নির্মাণ করা হচ্ছে। জানা গেছে, সাদিয়া টেক্সটাইল মিলের তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য ১০-১২ দিন আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কদিমধল্যা থেকে পাকুল্যা পর্যন্ত নালা নির্মাণ শুরু করে মিল কর্তৃপক্ষ। এই নালা নির্মাণ করতে তারা ব্যবহার করছে সড়ক ও জনপথের জায়গা। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মহাসড়কঘেঁষা ৮-১০টি বসতবাড়ি। এ ছাড়া তরল বর্জ্য নালার মাধ্যমে পড়বে জনবসতিপূর্ণ এলাকার একটি খালে। বর্ষাকালে এই খালের পানি গুনটিয়া দিয়ে প্রবাহিত লৌহজং নদীর সঙ্গে মেশে এবং শুস্ক মৌসুমে খালটিতে কোনো পানি থাকে না।

গত সোমবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাদিয়া টেক্সটাইল মিলের নিযুক্ত নির্মাণ শ্রমিকরা নালা নির্মাণের কাজ করছেন।

মহাসড়কঘেঁষা সাটিয়াচরা গ্রামের আবদুল খালেক বলেন, ‘সাদিয়া টেক্সটাইল মিল কর্তৃপক্ষ নালা নির্মাণ করছে। নালাটি আমার বাড়ির ওপর দিয়ে যাবে। মিল কর্তৃপক্ষ এখনো আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি।’

একই এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার বলেন, ‘মিল কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক বাড়ি-ঘর ভেঙে ফেলার ভয় দেখায়। এতে আমরা আতঙ্কে রয়েছি।’

সাদিয়া টেক্সটাইল মিলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদুল আলম বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি নিয়ে নালা নির্মাণ করছি। অনুমতি প্রদানের প্রমাণপত্র আমাদের হেড অফিসে জমা আছে।’ সড়ক ও জনপথ বিভাগের মির্জাপুর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, সাদিয়া টেক্সটাইল মিল নালা নির্মাণের অনুমতির জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু এখনো তা অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন ছাড়া কাজ করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সওজের জমিতে নালা নির্মাণের অনুমতি আমার কার্যালয় থেকে দেওয়া হয় না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত