বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তলানিতে পৌঁছাচ্ছে, তখন চীনে অস্বাভাবিকভাবে সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। পেইচিং বলছে, করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর এখনই তাদের সবচেয়ে বেশি মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে। কেন এমনটা হচ্ছে এর কোনো সদুত্তর পেইচিং কর্র্তৃপক্ষ দিতে পারছে না। ফলে সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে একের পর এক কভিড নীতিমালা জারি করছে দেশটি।
চীনের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক নগরী সাংহাইয়ে নতুন করে দেখা দেওয়া করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের লাগাম টানতে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে, যা নগরীর বাসিন্দাদের জীবন-যাপনকে কঠিন করে তুলেছে। কুকুরকে হাঁটানোর মতো দৈনন্দিন কাজ কীভাবে সারছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা তুলে ধরছেন সেখানকার স্থানীয়রা। নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের হটস্পটে পরিণত হয়েছে সাংহাই। গত কয়েক দিন ধরে দৈনিক সংক্রমণ কমে গেলেও অন্যান্য দেশের তুলনায় তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। শহরটির ২ কোটি ৬০ লাখ বাসিন্দাকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংহাইয়ে লকডাউনের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। সংকট মোকাবিলায় দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সাংহাই প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে সাংহাইয়ের বাসিন্দাদের টুইট করা ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোনের মাধ্যমে বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। শহরটির বাসিন্দারা খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ ঘাটতির প্রতিবাদে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে গান গেয়ে প্রতিবাদ করার সময় সুউচ্চ সব ভবনের কাছে ড্রোনের মাধ্যমে নির্দেশনা ঘোষণা করতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ড্রোন ব্যবহার করে লোকজনকে কভিড-১৯ বিধিনিষেধ মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের ইচ্ছা সংবরণের আহ্বান জানানো হয়। এমনকি তাদের জানালা না খুলতে এবং গান গাইতে বারণ করা হয়েছে।
এ ধরনের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাংহাইয়ের রাস্তায় জনসম্মুখে করোনা বিধিনিষেধ ঘোষণার সময় স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা মেগাফোন ব্যবহার করছেন। কর্মীরা সেখানকার একটি হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজ রাত থেকে দম্পতিদের আলাদাভাবে ঘুমানো উচিত। চুম্বন করবেন না। আলিঙ্গন করবেন না। পৃথকভাবে খাওয়া-দাওয়া করুন। সহযোগিতার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’ এক সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, চার পায়ের রোবট সাংহাইয়ের সড়কে টহল এবং স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বার্তা ঘোষণা দিচ্ছে।
