সহনশীলতার মাস

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২২, ০১:২৫ এএম

রোজা অন্যসব ইবাদতের মতো নয়। এটা আল্লাহ ও বান্দার গোপনীয় ব্যাপার। প্রকৃত মুমিন-মুসলমান ব্যক্তি বিশ্বাস ও একনিষ্ঠতার সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ধৈর্য্যরে সঙ্গে রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। রমজান মাস ধৈর্যের মাস। কিন্তু, রোজা অন্য সব ইবাদতের মতো নয়। এটা আল্লাহ ও বান্দার গোপনীয় ব্যাপার। প্রকৃত মুমিন-মুসলমান বিশ্বাস ও এখলাসের সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় একনিষ্ঠভাবে ধৈর্য্যরে সঙ্গে রোজাপালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।

ধৈর্যের প্রতিদান হলো- বেহেশত। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদিগকে ভয়-ভীতি ও ক্ষুধা-তৃষ্ণা দ্বারা পরীক্ষা করব এবং আমি সবরকারীদের সঙ্গে আছি।’ বলা হয়, ‘রোজা সবরের অর্ধেক, আর সবর ইমানের অর্ধেক।’ রোজা মুসলমানের জন্য একটি কঠোর সাধনা। এটা সহানুভূতির মাস। এটা সেই মাস, যে মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।’ -সুরা মুমিন : ১৫৫১

রোজার বড় একটা উদ্দেশ্য হলো, মানবজাতির আত্মশুদ্ধি। ইসলামে সাম্য-মৈত্রীর যে নান্দনিক দর্শন রয়েছে, সিয়াম সাধনার মাধ্যমেই মূলত এর বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। রমজান যেমন বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর রহমত বা দয়াকে আকর্ষণ করে, ঠিক তেমনি এক বান্দার প্রতি অপর বান্দার, এক মানুষের প্রতি অপর মানুষের অন্তরে মমত্ব, সহানুভূতি, দয়া, ভালোবাসার উপলক্ষ সৃষ্টি করে।

সংযম সাধনার এ মাসে ক্ষুধা ও পিপাসার প্রকৃত অনুভূতির মাধ্যমে বিত্তবান-সচ্ছল রোজাদার মানুষ দরিদ্র ও অভাবী মানুষের না খেয়ে থাকার কষ্ট বুঝতে সক্ষম হন।  এ উপলব্ধির আবেশেই বিত্তশালী ব্যক্তি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা নিয়ে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণাবোধ করেন। প্রিয় নবী (সা.) রমজানকে শাহরুল মুওয়াসাত তথা সহমর্মিতা-সহানুভূতির মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আর এ সহমর্মিতার ক্ষেত্র শুধু আর্থিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি অপর মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সর্বোত্তম বিনম্র আচরণ, সদুপদেশ প্রদান, তার জন্য প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা সহমর্মিতার মধ্যে গণ্য। এ বিষয়টির অপরিহার্যতা ফুটে উঠেছে হজরত নোমান ইবনে বাশির (রা.) বর্ণিত হাদিসে। তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের একে অপরের প্রতি সম্প্রীতি, দয়া ও মায়া-মমতার উদাহরণ একটি দেহের মতো। যখন দেহের কোনো অঙ্গ ব্যথা পায়, তখন তার জন্য পুরো শরীরই অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।’ -সহিহ বোখারি : ৬০১১

আমি নিজকে যতটুকু ভালোবাসি। নিজ দেহের যত্ন নিই যতটুকু, যতটুকু নিজের পরিচর্যা করি, অবহেলা করি না, তেমনি অন্যের প্রতিও অবহেলা দেখানো যাবে না। মানুষের প্রতি দয়াশীল হতে হবে, মন উজাড় করে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। পরিপূর্ণ সহানুভূতি আর হৃদ্যতার দ্বারা মানবসেবায় নিজেদের এগিয়ে আসতে হবে। রমজান মাসের সহমর্মিতার এই শুভ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ আমরা যদি বছরব্যাপী অনুশীলন করি, তবেই মানব সমাজে আর দেখা যাবে না কোনো রকম অসাম্য ও শ্রেণিবৈষম্য। দূর হবে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশান্তি-হানাহানি। তাই আসুন, মাহে রমজানে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা নিয়ে সামনের জীবন পরিচালনা করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত