মাদারীপুর সদর উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করা হয়েছে আরও দুই-তিন বছর আগেই। কিন্তু এখনো অনেকের ঘরে বিদ্যুৎ নেই। অনলাইনে আবেদন করে দেড় থেকে দুই মাস অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। রমজান মাসের পাশাপাশি তীব্র গরমে ঘরে অবস্থান করতে পারছেন না অনেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইনে আবেদন করতে গিয়েও অনেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন। একবার আবেদন করার পর তা বাতিল হয়ে গেছে। দ্বিতীয়বার আবেদন করার পর এক মাস চলে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি একাধিকবার পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান মেলেনি। শত শত গ্রাহক অনলাইনের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। অনেকে ধৈর্যহারা হয়ে বিদ্যুতের আসা ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের আনিচ চৌধুরী দেড় মাসে আগে দুবার অনলাইনে আবেদন করে সব টাকা জমা দিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি। এ গরমের মধ্যেই তার ঘরজুড়ে এসেছে একটি ফুটফুটে সন্তান। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় থাকতে হচ্ছে অন্যের বাসায়। তিনি বলেন, ‘মার্চের প্রথম দিকে অনলাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগের সব টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে জানালে তারা বলেছে পেয়ে যাবেন, প্রয়োজনে মিঠাপুর অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করেন। মিঠাপুর যোগাযোগ করলে তারা জানায়, এই নামে কোনো মিটার আসেনি।’
আনিচ ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘আমার বাড়িতে থাকা অসম্ভব হওয়ায় শিশু সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। যেখানে সরকার বলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ দেবে, সেখানে দেড় মাসে বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। তাহলে সরকারের কথা বিদ্যুৎ মানল কীভাবে?’
ধুরাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে এবং ফোন দিয়ে প্রায় ২৫ দিন পর বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন।
মাদারীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ জোনাব আলী বলেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে সাত দিনের মধ্যে আবাসিক সংযোগ দিয়ে থাকি। তবে আমাদের অফিসের কারও গাফিলতি থাকলে আমরা অবশ্যই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আবেদনের পরও যারা এখনো সংযোগ পায়নি, দুই-এক দিনের মধ্যে তাদের সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করব।’
