শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইমরান খানের

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২২, ১১:০৮ এএম

পার্লামেন্টে ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নাকচ করে যে সিদ্ধান্ত ডেপুটি স্পিকার দিয়েছিলেন তাকে ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে বাতিল করে দিয়েছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। ইমরান খানের আহ্বানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার জাতীয় পরিষদ পুনরুজ্জীবিত করে অধিবেশন শুরুর পাশাপাশি আস্থা ভোটের ফয়সালা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের এমন রায়ের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ‘শেষ বল’ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব বাতিল ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে পার্লামেন্ট পুনর্বহালেরও নির্দেশ দেন বিচারপতিদের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। এ রায়ের পরই প্রথম প্রতিক্রিয়ায় এমন বার্তা দিলেন ইমরান খান।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বৃহস্পতিবার রাতে এক টুইট বার্তায় লেখেন, ‘শুক্রবার ক্যাবিনেটের বৈঠক ডেকেছি। সংসদীয় দলের সঙ্গেও বসবো। সন্ধ্যায় আমি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবো। সবসময় দেশবাসীর পাশে আছি।পাকিস্তানের হয়ে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবো’।

গত রবিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা বিরোধী জোটের তরফে পেশ হওয়া অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভোটাভুটির কথা থাকলেও ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি তা খারিজ করে দেন। তিনি জানান, বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় আনা এই অনাস্থা প্রস্তাব সংবিধানবিরোধী এবং তা দেশের কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পাকিস্তানের সংবিধানের ৫ নম্বর ধারা মেনে এ নিয়ে কোনো ভোট করাতে পারবেন না তিনি।

এর পরেই ইমরান খানের সুপারিশে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সেদিন রাতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন বিরোধীরা। সোমবার থেকে শুনানি শুরু হয়। পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়ালের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন বিচারপতি মুনীব আখতার, বিচারপতি আইজাজুল আহসান, বিচারপতি মাজহার আলম ও বিচারপতি জামাল খান মন্দোখেল।

রায় ঘোষণাকালে পাকিস্তানি পার্লামেন্টের স্পিকার আসাদ কায়সারকে আগামী শনিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ওইদিনই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।

ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা না থাকা নিয়ে চরম রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে পাকিস্তান। ইমরানের দাবি, তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ ও বিদেশিরা এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন ইমরানসহ অনেকেই। এমনকি রাশিয়া অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবাধ্য’ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শাস্তি দিতে চেয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইমরান খানের বিরোধীদের অর্থায়ন করে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে তার সরকার পতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইমরান খানের বিরোধীদের দাবি, ২০১৮ সালে সামরিক বাহিনীর সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান। এখন তাঁর মাথার ওপর থেকে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর ছায়া সরে গেছে। যদিও কোনো পক্ষই বিষয়টি স্বীকার করে না। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে ‘গুরুতর রাষ্ট্রদ্রোহ’ করেছেন ইমরান খান।

পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে কোনও প্রধানমন্ত্রীই নিজেদের ক্ষমতার পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ সমাপ্ত করতে পারেননি। কখনও খুন হয়ে, আবার কখনও বিরোধী দলের অনাস্থার মুখে পড়ে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত