শাহজাদপুরে ডুবল আরও ১০০ বিঘা জমির ধান

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২২, ০৪:০২ পিএম

যমুনা, করতোয়া, বড়াল ও হুড়াসাগর নদীতে এখনো পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকাসহ ১৩টি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী আরও ১০০ বিঘা নিচু জমির বোরো ধান ডুবে গেছে।

উপজেলার কৈজুরি, সোনাতনী, গালা ও জালালপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের নিচু জমির কাঁচা ও আধা পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধান ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা চরম লোকসানে পড়েছে। অনেকে পানি থেকে কাঁচা ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছে। অনেকে আবার আধা পাকা ধান মাড়াই করে কিছুটা চাল বের করার চেষ্টা করছে।

এ ছাড়া পানি বৃদ্ধির কারণে নদী তীরবর্তী তিল, বাদান ও কাউন ডুবে যাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে সানাতনী গ্রামের নূর ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, ছোট চানতারা গ্রামের খোরশেদ আলম ও বানতিয়ার গ্রামের অয়জাল সরকার, হোসেন আলী ও আলম শেখ বলেন, নদীতে পানি বৃদ্ধির অব্যাহত থাকায় আমাদের প্রায় ১০০ বিঘা জমির বোরো ধান ডুবে গেছে। এ ধান দিয়ে আমাদের অর্ধেক বছরের খাদ্যর চাহিদা মিটানো হতো। এখন ধান ডুবে যাওয়ায় আমরা সারা বর্ষায় কি খাবো তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

তারা আরও বলেন, কাঁচা ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছি। এতে গরুর খর কেনা থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করছি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আপদকালীন খাদ্য সহায়তা দিতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এদিকে শুক্রবার দুপুরেও চুনিয়াখালিপাড়া, থানারঘাট ব্রিজের নিচে, শান্তিপুর, চরনাড়–য়া, বাতিয়া, মাদলা এলাকার নিচু জমি থেকে কৃষকদের ডুবে যাওয়া ধান কাটতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে চুনিয়াখালিপাড়া গ্রামের আয়নাল প্রামানিক, শহিদুল ইসলাম, নাহিদ প্রামাণিকসহ একাধিক কৃষক বলেন, প্রতি বছর সাধারণত জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় মাসের দিকে নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়। কিন্তু এ বছর চৈত্র মাসের শুরুতেই হঠাৎ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের এ অপূরণীয় ক্ষতি হোল।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে শাহজাদপুর উপজেলায় আরও প্রায় ১০০ বিঘা বোরো ধান ডুবে গেছে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে তথ্য পাঠিয়েছি। কোনো কিছু বরাদ্দ এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

 এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের আরও ৫০ বিঘা নিচু জমির কাঁচা ও আধা পাকা ধান ডুবে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে তারা কাঁচা অথবা আধা কাচা ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল লতিফ জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা ও এর শাখা নদী গুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে আরও ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আ জ ম আহসান শহিদ সরকার জানান, হঠাৎ যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার নদী বেষ্টিত চার উপজেলার দেশি কালো জাতের বোরো ধান কিছুটা ডুবে গেলেও কৃষকদের তেমন ক্ষতি হবে না। ইরি-বোরো উঠলে এ ক্ষতি তারা পুষিয়ে নিতে পারবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত