ঘরের সাজে ঐতিহ্য

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২২, ১১:১১ পিএম

বৈশাখে কেনাকাটা, রান্নাবান্না, সাজসজ্জা, পোশাক সব আয়োজনে আমরা খুবই ব্যস্ত হয়ে যাই। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ঘর সাজানো। ঘরের সাজে কীভাবে বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলবেন জানালেন মো. মনিরুজ্জামান

বসার ঘর : গৃহসজ্জায় প্রথমেই প্রাধান্য পায় বসার ঘর। বাংলা নববর্ষ যেহেতু বাঙালির উৎসব সেহেতু গৃহসজ্জায় বাঙালিয়ানা ছাপ রাখতে হবে। মাটির শোপিস, মাটির পুতুল, টেপা পুতুল, ঘণ্টা, মাটির চাইম, প্রদীপ, নকশিকাঁথা, হাতপাখা, আলপনা এসব দেশীয় উপাদান দিয়ে তৈরি করতে পারেন বৈশাখী গৃহসজ্জা। এতে বসার আয়োজনে ভিন্নতা আসবে। শীতলপাটি, নকশিকাঁথা ও রঙিন কুশন সাজিয়ে  রাখতে পারেন। ঘরের কোণে সবুজ গাছ, পটারি বা টেরিরিয়াম সাজিয়ে দেওয়া যায়। দেয়ালে ঝোলানো যায় কাগজ, কাঠ, বাঁশ, বেত, মাটির নানান মুখোশ। একটি মাটির পাত্রে পানি নিয়ে পছন্দমতো ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে এতে রং-বেরঙের ফ্লোটিং মোমবাতি জ্বালাতে পারেন। এছাড়া ব্যবহার করা যায় নানা রকম ল্যাম্পশেড। আলপনা ও প্রদীপ জ্বালিয়ে পূর্ণাঙ্গ করে তোলা যায় বৈশাখী সাজের বসার ঘর। আর আপনি যদি আরও ভিন্ন কিছু করতে চান সেক্ষেত্রে এই দিনটিতে মেঝেতে বসার আয়োজন করা যেতে পারে। শীতল পাটি, নকশিকাঁথা ইত্যাদির ওপর কতগুলো রঙিন কুশন ছড়িয়ে দিয়ে বসার আয়োজন করা যেতে পারে।

খাবার ঘর : এই ঘরের প্রধান অংশ হচ্ছে খাবার টেবিল, তাই টেবিলটিকে সাজাতে হবে দেশীয় উপাদান দিয়ে। সে ক্ষেত্রে খাবার পরিবেশনে মাটির বাসনের বিকল্প কিছু নেই। মাটির থালা, বাটি, গ্লাস, জগ ইত্যাদি দিয়ে খাবার পরিবেশনের জন্য সুবিধামতো করে সাজিয়ে নিতে পারেন খাবার টেবিলটি। টেবিলের মাঝখানে মাটির পাত্রে রাখুন তাজা ফুল। ন্যাপকিনগুলোকে কোনাকৃতিতে ভাঁজ করে রাখুন প্লেটের সামনে। খাবার টেবিলটি ঢেকে দিতে হবে তাঁতের ব্লক প্রিন্ট বা হ্যান্ড পেইন্টের টেবিল কভার দিয়ে। নতুনত্ব হিসেবে আদিবাসীদের রঙিন থামি দিয়ে টেবিল কভার বানানো যেতে পারে। টেবিল রানারটি শীতলপাটি, বাঁশ অথবা নকশিকাঁথার হতে পারে। আদিবাসীদের তৈরি রেশমি সুতার বর্ণিল চকচকে ওড়নাও রানার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

কোথায় পাবেন : আড়ং, আজিজ সুপার মার্কেট, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি মার্কেট, বসুন্ধারা সিটি মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক, দেশী দশসহ দেশীয় বুটিক হাউজে দেখা মিলবে বৈশাখী গৃহসজ্জার সামগ্রী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত